জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছেন এবং জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে তার কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহুর ভাষণের পর এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ‘নেতানিয়াহু বারবার ভিত্তিহীন মিথ্যা ছড়িয়েছেন, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তার গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়া।’
অন্যদিকে, জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহরটিতে ইহুদিরা আর নিরাপদ বোধ করছেন না। একই সঙ্গে মামদানির বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও করেন তিনি। গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা করেনি দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, বরং ইসরায়েল গণহত্যা ঠেকিয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুকে সরাসরি জবাব দেননি মামদানি। এর পরিবর্তে তিনি নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গাজা থেকে আসা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর সঙ্গে একটি জলপাইগাছ লাগানোর ভিডিও প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গত রাতে গাজা থেকে আসা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর সঙ্গে একটি জলপাইগাছ লাগিয়েছি। আমাদের ভবিষ্যতে শান্তি আসুক।’
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে কাতার ও তুরস্ক নিয়েও সমালোচনা ছিল। কাতারকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘অষ্টম ফ্রন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হামাসকে আশ্রয় দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থায়নের অভিযোগ করেন। জবাবে কাতারের উপ-রাষ্ট্রদূত হামাস আল-মুফতাহ বলেন, কাতার ইসরায়েল, হামাস, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তার দাবি, কাতারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় চাপালেও বাস্তবতা বদলাবে না।
তুরস্কও নেতানিয়াহুর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান বলেন, জাতিসংঘের মঞ্চে তুরস্ক ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ শান্তি, আইন ও সংলাপের জাতিসংঘীয় মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
সময়ের আলো/জেডি