জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পর কক্ষ ত্যাগ করেন ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তবে যাওয়ার আগে ইরানের জন্য নির্ধারিত আসনে সাবেক কুদস ফোর্স কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির একটি ছবি রেখে যান। ঘটনাটিকে ইরানের প্রতীকী কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় প্রতিনিধিদল ইচ্ছাকৃতভাবে সোলাইমানির ছবিটি আসনে রেখে বেরিয়ে যায়।
এর আগে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডানন ছবিটি নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি ইরানি প্রতিনিধিদের টেবিলের কাছে গিয়ে ছবিটি সেখানে কেন রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনাটি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সোলাইমানির ছবি রেখে যাওয়াকে তার উত্তরাধিকার ও ইরানের অবস্থানের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
বাঘায়ি বলেন, ‘একজন কমান্ডারের মৃত্যু তার অনুসৃত নীতি, স্বার্থ ও অবস্থান পরিত্যাগের অর্থ নয়।’
২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন কাসেম সোলাইমানি। তিনি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ইরানি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিও কক্ষ ত্যাগ করেন। ভাষণে নেতানিয়াহু ইরানকে ‘হত্যাকারী স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের দাবি করেন। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিরও সমালোচনা করেন।
সময়ের আলো/এমকে