গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। মনে হচ্ছে, একটু আগেই দেখা স্বপ্নের ভয় এখনো কাটেনি। বুক ধড়ফড় করছে, অস্বস্তি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে ইসলামের নির্দেশিত কিছু আমল করা যেতে পারে। এতে মনের অস্থিরতা কমার পাশাপাশি শয়তানের অনিষ্ট থেকেও আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অপছন্দনীয় বা দুঃস্বপ্ন দেখার পর কী করতে হবে, সে বিষয়ে সাহাবিদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই এমন স্বপ্ন দেখলে নিচের আমলগুলো করা যেতে পারে।
১. বাঁ দিকে তিনবার হালকা ফুঁ দিন
অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলে, ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম’ পড়ে বাঁ দিকে তিনবার হালকা থুতুর মতো ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। এটি দুঃস্বপ্নের অস্বস্তি থেকে নিজেকে সামলে নেওয়ার একটি সুন্নাহ আমল। (সহিহ মুসলিম)
২. আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান
দুঃস্বপ্ন বা শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে হবে। পড়তে পারেন— ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজিম ওয়া মিন শাররি হাজিহির রু’ইয়া।’
অর্থ : আমি বিতাড়িত শয়তান এবং এই স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
৩. শোয়ার পাশ পরিবর্তন করুন
যে পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখেছেন, ঘুম ভাঙার পর সেই পাশ পরিবর্তন করে অন্য দিকে ফিরে শোয়ার নির্দেশনাও রয়েছে হাদিসে। এতে দুঃস্বপ্নের পর তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে মনকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। (সহিহ মুসলিম)
৪. স্বপ্নের কথা কাউকে বলবেন না
অপছন্দনীয় স্বপ্ন অন্যের কাছে প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেছেন, কেউ অপছন্দনীয় কোনো স্বপ্ন দেখলে তা যেন কাউকে না বলে। তাহলে সেই স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি)
তাই দুঃস্বপ্ন নিয়ে অযথা আলোচনা বা এর ব্যাখ্যা খোঁজার পরিবর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা করাই উত্তম।
৫. প্রয়োজনে উঠে নামাজ পড়ুন
দুঃস্বপ্ন দেখে মন খুব বেশি অস্থির বা ভীত হয়ে পড়লে বিছানা ছেড়ে উঠে অজু করে নামাজ আদায় করা যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে উঠে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
(সহিহ মুসলিম)
দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে তাই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা এবং বিষয়টি নিয়ে অযথা চিন্তা না করাই করণীয়। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে মনের অস্থিরতাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।
সময়ের আলো/এসএকে