মাগুরার শালিখা উপজেলার ছান্দড়া গ্রামে কথিত ‘জিন সাপ’ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাপের কামড়ে এক শিশুর মৃত্যুর পর আরও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের আশায় স্থানীয়রা কবিরাজি আচারের আয়োজন করে গ্রামের একটি বড় গাছের চূড়ায় লাল পতাকা টাঙিয়ে ‘গ্রাম বন্ধ’ ঘোষণা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সাপের কামড়ে ছান্দড়া গ্রামের মিঠুন মোল্যার ১০ বছর বয়সী ছেলে আবিরের মৃত্যু হয়। আবির স্থানীয় একটি মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। শিশুটির মৃত্যুর পর থেকেই গ্রামে কথিত ‘জিন সাপ’ নিয়ে নানা আলোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, আবিরের মৃত্যুর পর থেকে গ্রামের অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় কোন প্রজাতির সাপ জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরপর সাপের কামড়ের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়তে থাকলে এর প্রতিকারের আশায় গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে কবিরাজি আচারের আয়োজন করেন স্থানীয়রা। এ জন্য পাশের জেলা যশোরের বাঘারপাড়া এলাকা থেকে একজন সাপুড়ে বা ওঝাকে আনা হয়।
পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে গ্রামের একটি বড় গাছের চূড়ায় লাল পতাকা টাঙানো হয়। মন্ত্রপাঠ ও বিভিন্ন নিয়ম পালনের মাধ্যমে কথিতভাবে পুরো গ্রাম ‘বন্ধ’ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ আয়োজন দেখতে গ্রামের নারী-পুরুষসহ আশপাশের এলাকার অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আচারে উপস্থিত ছিলেন ছান্দড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, তালখড়ি ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু মণ্ডল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে লাবলু মণ্ডল, অদুৎ মণ্ডল, তাহাজৎ মোল্লা, মহিন উদ্দিন, জেকের আলী, কদ্দুস সর্দার ও বিল্লাল হোসেন।
ঘটনাটি ঘিরে ছান্দড়া গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুর মৃত্যুর পর একাধিক সাপের কামড়ের খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নিছা বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে। সাপের কামড়ে আতঙ্কিত না হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া জরুরি। সাপের কামড়ের চিকিৎসায় ওঝা বা কবিরাজি পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।
সময়ের আলো/জোই