আশ্বিনের মাঝামাঝি সময়েও দেশজুড়ে অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তীব্র রোদের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবেই গত কয়েক দিন ধরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার রাতের মধ্যে স্থলভাগে উঠে গেলে বাতাসের প্রবাহের দিক পরিবর্তন হতে পারে। এরপর অস্বস্তিকর গরম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, সাগরে কোনো নিম্নচাপ বা আবহাওয়াগত সিস্টেম তৈরি হলে তুলনামূলকভাবে স্থলভাগ বেশি গরম হয়ে ওঠে। এ কারণেই গত দুই-তিন দিন ধরে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।
তিনি জানান, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার রাতের মধ্যেই স্থলভাগে উঠে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরে এটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে চট্টগ্রাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে।
নিম্নচাপটি সরে যাওয়ার পর উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।
চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
সোমবার বেলা ৩টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। একই সময়ে এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৮০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ছিল।
গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছিল।
সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে আপাতত দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে সিলেটে, ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নারায়ণগঞ্জ, রাঙামাটি ও বান্দরবানে, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সময়ের আলো/টিকে