চোখ মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চোখের সাজে সামান্য পরিবর্তনও বদলে দিতে পারে পুরো চেহারা। তাই চোখের সৌন্দর্য নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। একসময় চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যার সমাধান হিসেবে চশমাই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন সেই জায়গায় যুক্ত হয়েছে কনট্যাক্ট লেন্স। প্রয়োজনের পাশাপাশি এটি হয়ে উঠেছে ফ্যাশনেরও অংশ।
চশমার ফ্রেম বদলে যেমন নিজের লুক পাল্টানো যায়, তেমনি লেন্সের রং বদলেও আনা যায় নতুনত্ব। কালো বা বাদামি চোখের সঙ্গে এখন দেখা যাচ্ছে নীল, ধূসর, সবুজ কিংবা হ্যাজেল রঙের লেন্স। পোশাক, মেকআপ কিংবা অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী অনেকে বেছে নিচ্ছেন ভিন্ন রঙের লেন্স। ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে রঙিন লেন্সের জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। পার্টি, বিয়ে কিংবা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে লেন্স পরছেন অনেকে। কেউ বেছে নিচ্ছেন হালকা বাদামি। কেউ আবার ধূসর বা নীল। স্বাভাবিক লুকের জন্য অনেকে এমন রং পছন্দ করেন, যা চোখের স্বাভাবিক রঙের সঙ্গে সহজে মিশে যায়।
আবার কেউ লেন্স ব্যবহার করছেন পুরোপুরি স্টাইলের জন্য। চোখের পাওয়ার না থাকলেও শুধু চেহারায় পরিবর্তন আনতে রঙিন লেন্স পরা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তোলা বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এটি হয়ে উঠছে সাজের একটি অংশ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
তবে কনট্যাক্ট লেন্স শুধু রঙের বিষয় নয়। যাদের চোখে পাওয়ার আছে, তারাও চশমার পরিবর্তে পাওয়ার লেন্স ব্যবহার করতে পারেন। এতে চোখে চশমার ফ্রেম থাকে না। ফলে মুখের স্বাভাবিক গড়নও স্পষ্ট দেখা যায়। কর্মক্ষেত্র কিংবা দৈনন্দিন জীবনে অনেকের কাছে এটিই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের মনে হয়। তবে লেন্স বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ফ্যাশন দেখলেই হবে না। চোখের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া পাওয়ার লেন্স ব্যবহার করা উচিত নয়। চোখের মাপ ও প্রয়োজন অনুযায়ী লেন্স নির্বাচন করতে হয়। ভুল মাপের বা নিম্নমানের লেন্স চোখে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। হতে পারে শুষ্কতা, লালচে ভাব কিংবা জ্বালাপোড়া।
লেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নিয়ম। লেন্স পরার আগে ও খোলার সময় ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করতে হবে। অন্যের ব্যবহৃত লেন্স কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। লেন্সের নির্ধারিত ব্যবহারের সময়সীমা মেনে চলাও জরুরি। ঘুমানোর আগে লেন্স খুলে রাখা প্রয়োজন, যদি না সেটি বিশেষভাবে দীর্ঘসময় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়। চোখে অস্বস্তি হলে জোর করে লেন্স পরে থাকা ঠিক নয়।
লেন্সের সঙ্গে মেকআপেরও রয়েছে একটি সম্পর্ক। সাধারণত মেকআপ করার আগে লেন্স পরা এবং মেকআপ তোলার আগে লেন্স খুলে নেওয়া নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে প্রসাধনীর কণা চোখে বা লেন্সের নিচে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
ফ্যাশনের জগতে পরিবর্তন সবসময়ই নতুন কিছু নিয়ে আসে। চশমার পাশাপাশি কনট্যাক্ট লেন্স সেই পরিবর্তনেরই একটি অংশ। কখনো এটি দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজন মেটায়। কখনো হয়ে ওঠে সাজের অনুষঙ্গ। চোখের রঙে সামান্য পরিবর্তন এনে বদলে দিতে পারে পুরো লুক।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘চশমার পরিবর্তে কনট্যাক্টলেন্স ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে। তবে চোখের জন্য উপযোগী কি না তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। সঠিক পাওয়ারের লেন্স, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ব্যবহার করলে ঝুঁকি কম থাকে। দীর্ঘক্ষণ বা অনিয়ম মেনে লেন্স ব্যবহার করলে চোখ শুষ্ক হওয়া, অ্যালার্জি বা সংক্রমণ হতে পারে।
তাই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে লেন্স ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।’ তবে ফ্যাশন যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই। তাই ট্রেন্ড অনুসরণ করার আগে প্রয়োজন সঠিক লেন্স, সঠিক ব্যবহার এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। চোখে রঙের ছোঁয়া থাকুক। সেই সঙ্গে থাক নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে/এমকে