জাতিসংঘ সনদের ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ এখনও গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বাস্তব প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই এই ধারাগুলো মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করা উচিত নয় বলে জানিয়েছে চীন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জাপানের বক্তব্যের জবাবে চীনের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
২৮ সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী উপপ্রতিনিধি সুন লেই বলেন, জাপান এর আগে জাতিসংঘ সনদের ‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। চীন এই দাবির দৃঢ় বিরোধিতা করে।
তিনি বলেন, জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিকতাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ‘শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র’ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার সময়ও দেশটি জাতিসংঘ সনদের বিধান মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।
চীনের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে জাপান সেই অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। চীনের দাবি, দেশটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কথিত হুমকিকে সামনে এনে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও অস্ত্র সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে।
সুন লেই বলেন, গত কয়েক বছরে জাপান সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে, অস্ত্র রফতানির বিধিনিষেধ শিথিল করেছে এবং মধ্যম ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের ‘শান্তিবাদী সংবিধান’ সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা করছে।
চীনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণের প্রবণতা দেখায়, যা শুধু পূর্ব এশিয়া নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের কারণ।
‘শত্রু রাষ্ট্র ধারা’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
সুন লেই বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫৩, ৭৭ ও ১০৭ অনুচ্ছেদে থাকা ‘শত্রু রাষ্ট্র’ সম্পর্কিত বিধানগুলোর এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য রয়েছে।
চীনের মতে, এসব বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো ফ্যাসিবাদ ও সামরিকতাবাদ যেন আবার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও রক্ষা করা।
চীন মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও এই বিধানগুলোর বাস্তব গুরুত্ব রয়েছে।
জাপানকে ইতিহাসের দিকে তাকানোর আহ্বান
এ বছর টোকিও ট্রায়ালের ৮০তম বার্ষিকী উল্লেখ করে সুন লেই জাপানের ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দেন।
তার বক্তব্য, জাপানের উচিত নিজের অতীতের সামরিক আগ্রাসনের ইতিহাসকে স্বীকার করা, সামরিকতাবাদ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা এবং শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া।
তিনি আরও বলেন, জাপানের ক্ষমতাসীনদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া, আত্মসমালোচনা করা এবং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করা প্রয়োজন।
চীন একই সঙ্গে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে জাপানের সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রবণতা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করবে বলেও জানান সুন লেই।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ