রাজধানীর উত্তরার একটি বাড়ির দখল নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার প্রবাসী ভাই অধ্যাপক শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শাহনওয়াজ আহমেদ। এসময় তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পরও তিনি ও তার মা বাড়িটির পূর্ণ দখল ফিরে পাননি। বরং কারাগারে থাকা তুরিন আফরোজ সেখান থেকেই বাড়িটি দখলে রাখার জন্য কলকাঠি নাড়ছেন।
শাহনওয়াজের দাবি, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর সড়কের ওই বাড়ি তার মা সামসুন নাহার তসলিম ১৯৯৭ সালে হেবা দলিলের মাধ্যমে তাঁকে দেন। হেবা সূত্রে মালিকানা পাওয়ার পর তিনি নিজের নামে নামজারি করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
তবে তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হওয়ার পর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তুরিন আফরোজ তাঁকে ও তাঁদের মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে নিজেকে বাড়িটির মালিক দাবি করে আদালতে মামলা করেন এবং তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ ঠেকাতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ নেন বলেও দাবি করেন শাহনওয়াজ।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ৫ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ওই স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করেন। এরপর তিনি ও তার মা বাড়িতে প্রবেশ করতে পারলেও পুরো বাড়ির দখল পাননি।
শাহনওয়াজের অভিযোগ, তাঁদের মাত্র ৮ ফুট বাই ৮ ফুটের একটি কক্ষে থাকতে দেওয়া হয়েছে। ওই কক্ষের বাইরে তাঁদের যেতে দেওয়া হয় না। গৃহকর্মী ও দারোয়ানদের সঙ্গে সেখানেই থাকতে হচ্ছে। বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তাঁদের সার্বক্ষণিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শাহনওয়াজ আরও অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা তুরিন আফরোজ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেই বাড়িটির বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার ১৯ বছর বয়সী মেয়েকেও রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বাড়িটি ‘কোচ আপ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি কোচিং সেন্টারকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ওই কোচিং সেন্টারকে ভাড়াটে হিসেবে রেখে তুরিন আফরোজ বাড়িটির দখল ধরে রেখেছেন।
এ ছাড়া তুরিন আফরোজের অনুসারী একটি চক্র তাঁদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শাহনওয়াজ। তার দাবি, ওই চক্রের সদস্যরা আগামী ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে শপথ নিলে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, চুরি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করার কথাও জানান শাহনওয়াজ। বাড়ির দখল নিয়ে দেওয়ানি আদালতে আরেকটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এসব মামলার শুনানি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে এবং এর পেছনেও তুরিন আফরোজের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহনওয়াজ আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে তাঁকে ‘বিএনপি-জামায়াত’ এবং তার অসুস্থ মাকে ‘জামায়াতের রোকন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিদেশে সম্মান পেলেও দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে ‘ক্লিয়ারেন্স’-এর নামে তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আদালতে বিচার চাইতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে মামলার নথিপত্র না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তার।
সংবাদ সম্মেলনে শাহনওয়াজ জানান, তার বৃদ্ধা মা বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই অবস্থায়ও তুরিন আফরোজ ও তার অনুসারীরা আদালতের আদেশ অমান্য করে তাঁদের ঘরছাড়া করার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শাহনওয়াজ। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে বাড়িটির পূর্ণ দখল বুঝিয়ে দেওয়া, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাড়িতে পরিচালিত কোচিং সেন্টারটি উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তুরিন আফরোজ বা তার প্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সময়ের আলো/এসএকে