অর্থনীতির গতি ফেরাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ

শোয়েব সাম্য সিদ্দিক

মতামত

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সংকটগুলোকে আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। মূল্যস্ফীতি এখনও নয় শতাংশের ওপরে।

2026-10-02T04:40:56+00:00
2026-10-02T04:50:12+00:00
 
  শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
অর্থনীতির গতি ফেরাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ
শোয়েব সাম্য সিদ্দিক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ এএম  আপডেট: ০২.১০.২০২৬ ৪:৫০ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সংকটগুলোকে আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। মূল্যস্ফীতি এখনও নয় শতাংশের ওপরে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা বাড়ছে। রফতানি খাতেও চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা। সরকারের ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ মেয়াদের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতেও রাজস্ব ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব সূচক পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, অর্থনীতির একটি জায়গায় চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য জায়গায় গিয়ে পড়ে। ফলে সমস্যাগুলোকে আলাদা করে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। বছরের পর বছর আমরা যেন একই চক্রের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছি।

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের আদায়ের তুলনায় এবার প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। অথচ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই ভ্যাট আদায় কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। শুধু জুলাই ও আগস্টেই ঘাটতি হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। তা হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, রাজস্ব আদায়ের কাঠামো ও পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার না এনে প্রতি বছর শুধু লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে কতটা এগোনো যাবে? বাস্তবতা হলো, লক্ষ্যমাত্রা কাগজে বাড়ালেই রাজস্ব বাড়ে না। এর জন্য দরকার কার্যকর কর প্রশাসন, করজালের বিস্তার এবং আদায় ব্যবস্থায় আস্থার পরিবেশ।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার নিচের সারিতে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর। উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাতে গিয়ে সরকারকে তাই ক্রমেই ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু রাজস্ব বাড়ানোর সহজ পথ হিসেবে শুধু নতুন কর আরোপের কথা ভাবলে চলবে না। বরং করের আওতা বাড়ানো, কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও ডিজিটাল করা, কর ফাঁকি কমানো এবং অর্থনীতির বড় অনানুষ্ঠানিক অংশকে হিসাবের আওতায় আনা জরুরি। বাস্তবতা হলো, যেখানে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও নথির বাইরে, সেখানে করহার বাড়ানোর চেয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোই বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে একদিকে রাজস্বের ভিত্তি বিস্তৃত হবে, অন্যদিকে করের চাপও তুলনামূলকভাবে ন্যায্যভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি খাতের চাপও রাজস্ব ও সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাসভিত্তিক। অথচ দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়। বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে তেল আমদানিতে বাড়তি ব্যয় এখন বাণিজ্য ঘাটতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান। এই বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে রিজার্ভ দিয়ে কত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে, সেই সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বেশি করে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের দিকে যেতে হচ্ছে। আগস্টে ডিজেল বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। সামনে বোরো মৌসুম। সেচের জন্য জ্বালানির চাহিদা বাড়লে এই চাপ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বাস্তবতায় সমাধান শুধু আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নেই। কম খরচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কোন কেন্দ্রে কত খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, কতটা সক্ষমতা কাজে লাগছে, কোথায় সঞ্চালন ঘাটতি এবং কোথায় অপচয় হচ্ছে, এসব তথ্যও জনসমক্ষে থাকা দরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে দিলে মানুষের ওপর চাপ বাড়বে, আবার সীমাহীন ভর্তুকিও রাষ্ট্রের জন্য টেকসই নয়। তাই দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির ব্যবস্থা করা জরুরি।

জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য উৎসের দিকেও দ্রুত এগোতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক গ্রিড গড়ে তুলতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তি সাময়িক নিশ্চয়তা দিতে পারে, কিন্তু আমদানিনির্ভরতা স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ এখন সমস্যা শুধু জ্বালানির দাম নয়, প্রয়োজনের সময় জ্বালানি পাওয়া যাবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।

তবে সব খবর হতাশার নয়। অর্থনীতির স্বস্তির জায়গাগুলোর একটি এখন প্রবাসী আয়। মার্চ থেকে আগস্টে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। শুধু আগস্টেই প্রবৃদ্ধি ছিল ২২ শতাংশের বেশি। বৈধ পথে অর্থ পাঠানো বাড়ায় রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে, সামলানো যাচ্ছে বৈদেশিক লেনদেনের কিছু চাপও। কিন্তু শুধু রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে কতদিন চলা যাবে? জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ কোটি ডলারে। আমদানি ব্যয় হয়েছে ৬৪৪ কোটি ডলার, অথচ রফতানি আয় কমেছে। একই সময়ে এফডিআই নেমে এসেছে ১১ কোটি ডলারে এবং লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ৬৩ কোটি ডলার। তাই রেমিট্যান্স সাময়িক স্বস্তি দিলেও টেকসই অর্থনীতির জন্য রফতানি ও বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

রফতানির আরেক দুর্বলতা তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরতা। ওষুধ, চামড়া, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, আইসিটি, হালকা প্রকৌশল ও জাহাজ নির্মাণের মতো খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিতে হবে। নয়তো একটি খাতের ধাক্কাই পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

ব্যাংকিং খাতেও সংকট গভীর। খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে শুধু সুদের হার কমিয়ে অর্থনীতিকে সচল করা যাবে না। সবার আগে ফিরিয়ে আনতে হবে ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা। দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, প্রকৃত খেলাপি ঋণ শনাক্ত করা, প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ সুবিধা বন্ধ করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি আরও কঠোর করা জরুরি। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরানো দুটিই কঠিন হবে।

আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া দরকার সরকারি অর্থ কীভাবে খরচ হচ্ছে, তার ওপর। প্রতি বছরই দেখা যায়, অনেক মন্ত্রণালয় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ পাওয়া পুরো টাকা খরচ করতে পারে না। অন্যদিকে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে সমস্যায় পড়ছেন। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ কমে যায়, সুদও বাড়ে। এতে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই শুধু বাজেটে কত টাকা বরাদ্দ হলো, সেটি দেখলে হবে না। সেই টাকা সময়মতো এবং সঠিক জায়গায় খরচ হচ্ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা টাকার অভাবে নয়, বরাদ্দ করা টাকা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারাই বড় সমস্যা।

উদ্যোক্তা তখনই বিনিয়োগ করেন, যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চয়তা পান। জমি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ঋণ, কর, আমদানি রফতানি ও বিভিন্ন অনুমোদন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগ কমে, ব্যবসার খরচ বাড়ে। সেই সঙ্গে দুর্নীতির সুযোগও তৈরি হয়। ওয়ান স্টপ ইনভেস্টমেন্ট সিস্টেমকে তাই কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দিকেও নজর দিতে হবে। জেলা পর্যায়ে শিল্পাঞ্চল, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হিমাগার ও আধুনিক লজিস্টিকস গড়ে উঠলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক চাপও কিছুটা কমবে।

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর কথা অনেক বছর ধরেই বলা হচ্ছে। সুশাসনের প্রতিশ্রুতি এসেছে, নতুন নীতিমালাও হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরছে না। এই সংকট শুধু বাজারের কারিগরি বিষয় নয়। নীতির ধারাবাহিকতা না থাকাও এর একটি কারণ। একটি নীতি কার্যকর হওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা তার প্রভাব বুঝে ওঠার আগেই আবার পরিবর্তন এলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে স্থির, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির প্রয়োজন।

সবশেষে আসে দক্ষ জনশক্তির প্রশ্ন। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে, যদি তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও কাজের সুযোগ দেওয়া যায়। তা না হলে এই বিপুল জনসংখ্যাই একসময় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তাই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগসূত্র তৈরি করা জরুরি।

আসলে সমস্যাগুলো আলাদা নয়, একটির সঙ্গে অন্যটির যোগ রয়েছে। জ্বালানি খরচ কমলে উৎপাদন ব্যয় কমবে, রফতানির সক্ষমতা বাড়বে, বাণিজ্য ঘাটতি কমবে এবং রাজস্ব আদায়ও বাড়তে পারে। অর্থনীতিকে তাই একেকটি সমস্যা ধরে আলাদা করে দেখলে হবে না। রাজস্ব, জ্বালানি, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, রফতানি ও কর্মসংস্থানকে একই সঙ্গে সামনে রেখে নীতি নিতে হবে। টেকসই অর্থনৈতিক গতি ফেরাতে সমন্বিত নীতির বিকল্প নেই।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   অর্থনীতি  গতি  নীতি  সমন্বিত  উদ্যোগ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: