আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশের ৯-২ গোলের হারের পর জাতীয় দলের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাইটক্লাব বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে তাদের একটি নাইটক্লাবে দেখা যাওয়ার দাবি ওঠে। তবে পরে ওই পোস্ট দেওয়া নারী দাবি করেছেন, ছবিগুলো চলতি আসরের নয়, প্রায় দুই মাস আগের।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলানা নামের এক নারীর পোস্ট থেকে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে সাদ উদ্দিনকে নাচতে এবং সোহেল রানাকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। এরপরই জাতীয় দলের দুই ফুটবলারকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু জানান, ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের পর রাতের খাবার শেষে খেলোয়াড়েরা নিজ নিজ কক্ষে চলে যান। তবে খেলোয়াড়দের সারারাত নজরদারিতে রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাবু বলেন, ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে বাফুফের শৃঙ্খলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তার ভাষায়, ‘যদি তারা এমন কিছু করে থাকে, তবে আমাদের শৃঙ্খলা কমিটি তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’
প্রথম পোস্টের পর অনেকেই ধরে নেন, ম্যাচের পর রাতে জাকার্তার কোনো ক্লাবে গিয়েছিলেন সাদ ও সোহেল। তবে দুই ফুটবলারের অনুরোধের পর পোস্টটি মুছে নতুন ব্যাখ্যা দেন আলানা।
নতুন পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও চলতি আসিয়ান কাপের নয়, বরং প্রায় দুই মাস আগে নেপালে তোলা। ভ্রমণের সময় নিজের অবস্থান গোপন রাখতে তিনি সাধারণত ছবি ও ভিডিও পরে প্রকাশ করেন বলেও জানান। কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাও দাবি করেছেন, ছবিগুলো পুরোনো। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহামেডানে যোগ দেওয়ার পর জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগে ছুটিতে তারা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখানকার একটি ক্লাবেই আলানার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়।
সাদ উদ্দিন বলেন, ‘জায়গাটিতে যাওয়া আমাদের ঠিক হয়নি, তবে পেশাদার ফুটবলের বাইরে আমাদেরও ব্যক্তিগত জীবন থাকতে পারে।’
তবে আলানার প্রথম পোস্টের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, জাকার্তার ‘এইচ ক্লাবে’ বাংলাদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে এবং তারা তাকে ম্যাচ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরে সেই পোস্ট মুছে দিয়ে তিনি জানান, অন্য কেউ যেন ভিডিওটি ব্যবহার না করেন। করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
ফলে ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সময়ের আলো/টিকে