কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাত্র তিন দিনে পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। পারিবারিক বিরোধ, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের এসব ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সর্বশেষ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে বাবার কাছে ২০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে বড় ভাই এমদাদ হোসেন রাছেল (৩৫) নিহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট ভাই ইমরান হোসেন হাসুয়া দিয়ে রাসেলকে কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
রাছেল তাজপুর গ্রামের ডাব ব্যবসায়ী আহাদ হোসেনের বড় ছেলে। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন শিল্পনগরীর আল্লারদর্গায় একটি পারটেক্স কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে টেঙ্গুর নামে প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণও হয়। একপর্যায়ে সড়কির আঘাতে টেঙ্গুর গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মন্ডলের ছেলে।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকার একটি হেরিংবোন সড়কের পাশ থেকে খড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত হয় রাজা হোসেন (২৫) নামে। তিনি কামালপুর গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে। পুলিশের ধারণা, মরদেহটি দুই থেকে তিন দিন পুরোনো। মরদেহের বিভিন্ন অংশ শিয়ালে ক্ষতবিক্ষত করেছিল।
এ ঘটনায় রাজার বন্ধু একই গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে রিফাছ হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পরপর তিন দিনে তিনটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, মাদককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড—তিন ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই