ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক স্কুলশিক্ষিকাকে দিনের বেলায় জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহকে গ্রেফতার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে আকছিনা-কুল্লাবাড়ী মডার্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে স্কুলের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন আকছিনা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আমিন মোল্লা, খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আজাদ মিয়া, ছাত্রদল নেতা খন্দকার সাদ্দাম হোসেন, খন্দকার রনি, খন্দকার জসিম উদ্দিন, শাহআলম জমাদ্দার, হাজী নুরুল আমিন, হাজী শামিম আহমেদ, কাজী জিলানী ভূইয়া, শামিম রেজা, শিশু ভূইয়া ও আকছিনা-কুল্লাবাড়ী মডার্ণ স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, স্কুলশিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহকে আসামি করে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কসবা থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। অভিযোগের ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। একইসঙ্গে দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহকে ছাত্রদলের পদ ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহকে গ্রেফতার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেওয়ার যে বক্তব্য সমাবেশে দেওয়া হয়েছে, সেটিও বক্তাদের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে আকছিনা-কুল্লাবাড়ী মডার্ন স্কুলের ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। তিনি শিক্ষিকার সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান। তবে শিক্ষিকা এতে রাজি না হয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
শিক্ষিকার অভিযোগ, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন একটি কালো রঙের পিস্তল বের করে তার পেটে ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখান। পরে অপহরণের উদ্দেশ্যে তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফ দিয়ে পড়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্ত জিন্নাহ সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায়ই কসবা থানায় দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা। অভিযুক্ত গ্রেফতা না হওয়ায় রোববার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষিকাকে অপহরণের চেষ্টা করেননি। সম্পর্কের খাতিরে তাকে নিয়ে সিএনজিতে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। তাকে নিয়ে যে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে হেয় করতে এসব করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ আমরা গ্রহণ করেছি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।
সময়ের আলো/এনএন