সন্তান প্রসবের সময় একজন মায়ের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক চাপ ও ভয়ও কাজ করে। এ সময়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কোরআনের কিছু আয়াত ও সুরা তিলাওয়াত করে মায়ের পাশে থাকা যেতে পারে। ইসলামী গ্রন্থ ‘আল-আযকার লিন-নববী’-তে প্রসবের সময় পড়ার জন্য দুটি আয়াত ও দুটি সুরার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত ফাতেমা (রা.)-এর প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মে সালামা (রা.) ও জয়নব বিনতে জাহাশকে (রা.) তার কাছে বসে কিছু আয়াত ও সুরা পাঠ করে ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রসবের সময় পাঠের জন্য উল্লেখ করা আয়াত ও সুরাগুলো হলো—
১. আয়াতুল কুরসি
আরবি : اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম। লা তা’খুজুহু সিনাতুওঁ ওয়া লা নাউম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান যাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম। ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়িম মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসিয়া কুরসিইয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা। ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আজিম।
অর্থ : আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কে তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? মানুষের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তিনি সব জানেন। তিনি যা চান, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে। এগুলো সংরক্ষণ করতে তাঁকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করে না। তিনি সর্বোচ্চ, মহান।
২. সুরা আল-আ’রাফ, আয়াত ৫৪
আরবি : إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
বাংলা উচ্চারণ : ইন্না রাব্বাকুমুল্লাহুল্লাজি খালাকাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা ফি সিত্তাতি আইয়ামিন, ছুম্মাসতাওয়া আলাল আরশ। ইউগশিল্লাইলান নাহারা ইয়াতলুবুহু হাসিসা। ওয়াশ শামসা ওয়াল কামারা ওয়ান্নুজুমা মুসাখখারাতিম বিআমরিহি। আলা লাহুল খালকু ওয়াল আমর। তাবারাকাল্লাহু রাব্বুল আলামিন।
অর্থ : নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ। তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি রাত দিয়ে দিনকে ঢেকে দেন এবং দিন দ্রুতগতিতে রাতকে অনুসরণ করে। সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র তাঁর নির্দেশের অধীন। জেনে রাখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। মহিমান্বিত আল্লাহ, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
যে দুই সুরা পড়া যায়
১. সুরা ফালাক
আরবি : قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
বাংলা উচ্চারণ : কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মা খালাক। ওয়া মিন শাররি গাসিকিন ইজা ওয়াকাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফাসাতি ফিল উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইজা হাসাদ।
অর্থ : বলো, আমি আশ্রয় চাই ঊষার রবের কাছে—তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা ঘনিয়ে আসে, গ্রন্থিতে ফুঁ দেওয়া জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।
২. সুরা নাস
আরবি : قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
বাংলা উচ্চারণ : কুল আউজু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন্নাস। ইলাহিন্নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাজি ইউওয়াসউইসু ফি সুদুরিন্নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস।
অর্থ : বলো, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের উপাস্যের কাছে। সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে আত্মগোপন করে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়—জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
প্রসবের সময় এসব আয়াত ও সুরা তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা যায়। পাশাপাশি প্রসূতি মায়ের শারীরিক নিরাপত্তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সূত্র : আল-আযকার লিন-নববী