অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম মানুষকে সফলতার ঠিকানায় পৌঁছে দেয়—এই প্রবাদটি সত্যি প্রমাণ করেছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা খান মাহবুব। মাস্টার্স সম্পন্ন করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ প্রচেষ্টায় মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে সবজি ও তরমুজ চাষ করে এলাকায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তার এই বাম্পার ফলন এখন গোটা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের একরামখালী গ্রামের বাসিন্দা খান মাহবুব বাগেরহাট পিসি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। গত ৭-৮ বছর ধরে পারিবারিক সূত্রে পাওয়া ২০ বিঘা আয়তনের মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। তবে চলতি বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় মৎস্য ঘেরের অব্যবহৃত ভেড়িতে মিষ্টি কুমড়া, সামার ড্রাগন এবং তৃপ্তি প্রজাতির তরমুজ চাষ করেন। প্রথমবারেই তার এই উদ্যোগ অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘেরের ভেড়ির চারপাশ জুড়ে শোভা পাচ্ছে মিষ্টি কুমড়া ও তরমুজের সবুজ লতা আর ঝুলন্ত ফল। মাহবুব জানান, ইতোমধ্যে ঘেরের ভেড়ি থেকে ৬০ মণ মিষ্টিকুমড়া তুলে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ৬০ মণ মিষ্টিকুমড়া বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি দুই জাতের প্রায় ১৫ মণ তরমুজ ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং আরও ১৪-১৫ মণ তরমুজ বিক্রির উপযোগী রয়েছে। তিন মাসের এই স্বল্পমেয়াদি ফসল উৎপাদনে সব খরচ বাদ দিয়ে বেশ ভালো লাভ পেয়েছেন তিনি।
সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে খান মাহবুব বলেন, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে আমাদের এই এলাকায় ভালো ধান হয় না। মানুষের জীবিকা মূলত মাছ চাষের ওপরই নির্ভরশীল। তবে কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে এ বছর প্রথম ঘেরের ভেড়িতে সবজি ও তরমুজ চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করতে পারছি। স্বল্প সময়ে উৎপাদনে খরচ বাদে আর্থিক লাভের চেয়েও বড় কথা হলো, নিজ এলাকায় ৪টি শ্রমিক পরিবারের মাসিক ৪২ হাজার টাকা বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আত্মতৃপ্তি।
এ বিষয়ে জিউধরা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, উদ্যোক্তা খান মাহবুবকে কৃষি দফতরের পক্ষ থেকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়, যার সঠিক বাস্তবায়নেই আজকের এই সাফল্য।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো—এ রকম শিক্ষিত বেকার যুবকদের কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। মাহবুবের এই সাফল্য অন্য যুবকদেরও কৃষিকাজে অনুপ্রাণিত করবে।
প্রতিবেদনটিতে কোনো ধরনের সংশোধনের প্রয়োজন হলে বা অন্য কোনো ফরম্যাটে সাজাতে চাইলে নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন।
সময়ের আলো/জোই