অ্যালার্মের পর বারবার স্নুজ? শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

সকালে অ্যালার্ম বাজার পর অনেকেই চোখ বন্ধ রেখেই ভাবেন, ‘আর ৫ বা ১০ মিনিট ঘুমাই।’ মনে হয়, এতে শরীর আরও

2026-10-06T10:07:04+00:00
2026-10-06T10:08:22+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ফিচার
অ্যালার্মের পর বারবার স্নুজ? শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৭ এএম  আপডেট: ০৬.১০.২০২৬ ১০:০৮ এএম
অ্যালার্মের পর বারবার স্নুজ চাপলে ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। ছবি : সংগৃহীত
সকালে অ্যালার্ম বাজার পর অনেকেই চোখ বন্ধ রেখেই ভাবেন, ‘আর ৫ বা ১০ মিনিট ঘুমাই।’ মনে হয়, এতে শরীর আরও সতেজ হবে। কিন্তু গবেষণা বলছে, অ্যালার্মের স্নুজ বাটনে বারবার চাপ দেওয়ার এই অভ্যাসই দিনের শুরুটা উল্টো কঠিন করে তুলতে পারে।

স্নুজ বাটন অ্যালার্ম পুরোপুরি বন্ধ না করে কয়েক মিনিটের জন্য থামিয়ে দেয়, পরে আবার বাজে। এ সময় আমরা ফের হালকা ঘুমে ঢুকে পড়ি। শরীর তখন নতুন করে ঘুমের চক্রে যেতে চাইলেও কয়েক মিনিট পরই আবার অ্যালার্মে ঘুম ভেঙে যায়। ফলে, ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। এর প্রভাব হিসেবে দেখা দিতে পারে ‘স্লিপ ইনার্শিয়া’ বা নিদ্রাজড়তা। নেচার ও স্প্রিঙ্গারে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এ অবস্থায় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও প্রতিক্রিয়ার গতিও কমে যায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিদ্রাজড়তার প্রভাব কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে গভীর ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠলে এর প্রভাব বেশি হতে পারে।

সকালের স্নুজ ব্যবহারের ওপর ‘জার্নাল অব সাইকোলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি’-তে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্নুজ ব্যবহারকারীরা ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী এক ধরনের অস্থির অবস্থায় থাকেন। তারা পুরোপুরি ঘুমাতেও পারেন না, আবার পুরোপুরি জেগেও উঠতে পারেন না। এতে মস্তিষ্কের জাগরণ প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে নিদ্রাজড়তা বাড়তে পারে।


নিদ্রাবিজ্ঞানে ঘুম নিয়ন্ত্রণে ‘হোমিওস্ট্যাটিক স্লিপ ড্রাইভ’ ও ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বা দেহঘড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘স্লিপ মেডিসিন রিভিউজ’-এ প্রকাশিত গবেষণাগুলোতে বলা হয়েছে, এই দুই প্রক্রিয়ার সমন্বয় শরীরকে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জেগে উঠতে সহায়তা করে। তবে, বারবার স্নুজ চাপলে ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

এর সঙ্গে হরমোনেরও সম্পর্ক রয়েছে। ‘সাইকোনিউরোএন্ডোক্রাইনোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় ‘কর্টিসল অ্যাওয়েকেনিং রেসপন্স’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সকালে ঘুম ভাঙার সময় কর্টিসল হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, যা শরীরকে জেগে উঠতে সহায়তা করে। কিন্তু স্নুজ ব্যবহারে এই স্বাভাবিক জাগরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। একই সময়ে মেলাটোনিনের প্রভাব পুরোপুরি কাটতে সময় লাগায় জেগে ওঠার পরও শরীর ও মস্তিষ্ক কিছুটা ঝিমিয়ে থাকতে পারে।

এ ছাড়া ‘স্লিপ’ জার্নালে প্রকাশিত ঘুমের বিচ্ছিন্নতা বা ‘স্লিপ ফ্র্যাগমেন্টেশন’ নিয়ে গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুম বারবার ভেঙে গেলে মোট ঘুমের সময় ঠিক থাকলেও স্বাভাবিক জাগরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে গভীর ঘুম কমে গেলে কোষের মেরামত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মস্তিষ্কের বিশ্রাম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। স্নুজ বাটন এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘুমের একটি কারণ হতে পারে।

পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্লেষণেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। নিয়মিত স্নুজ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্লান্তি বেশি অনুভূত হতে পারে এবং দিনের শুরুতে শক্তির মাত্রাও কম থাকতে পারে। যদিও অনেকেই স্নুজকে ধীরে ধীরে ঘুম থেকে জাগার একটি উপায় মনে করেন, কিন্তু এটি ঘুমের শেষ অংশকে আরও খণ্ডিত করে দিতে পারে।

এ কারণে অনেকে ‘ওয়ান-টাচ রুল’ অনুসরণ করেন, অর্থাৎ অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়া। তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করা।

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   অ্যালার্ম  স্নুজ  প্রভাব  স্বাস্থ্য  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: