রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের নাব্য ও নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুনর্খনন ও সামগ্রিক উন্নয়নকাজ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম যৌথভাবে এ লেক পুনর্খননকাজের উদ্বোধন করেন।
৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৬ মিটার গড় প্রস্থের এই লেকে জমা হওয়া প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার স্লাজ (কাদা ও বর্জ্য) অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণে দুটি ভাসমান এক্সেভেটর ও চারটি বার্জ ব্যবহার করা হবে। প্রায় বছর মেয়াদি এ পুনর্খননকাজের প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় ২৬ কোটি টাকা। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশ নিয়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৮৬ একরের এই স্থানে বর্তমানে জলাশয়ের পরিমাণ ৫৫ একর।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী এ-সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এর প্রথম ধাপ হিসেবে লেকের সøাজ অপসারণ কাজ শুরু হলো। ডিটেইল ডিজাইন অনুযায়ী পুরো লেক সংস্কার করা হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, লেকের তলদেশ পরিষ্কারের পরপরই পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং লাইটিংয়ের কাজ শুরু হবে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের সুযোগসহ পুরো ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাথ ও সার্বিক অবকাঠামো সাজানো হবে। এ ছাড়া রবীন্দ্র সরোবরের মতো এখানে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
প্রকল্পের বিস্তারিত পটভূমি ও সুযোগ-সুবিধা : বছরের পর বছর ধরে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ক্ষয় ও পরিবেশগত ক্ষতি দূর করে ধানমন্ডি লেক পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে ডিএসসিসি মোট ৭৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকা লেক ও অবকাঠামো সংস্কারে এবং ২৫ কোটি টাকা ‘নজরুল সরোবর’ (বিদ্রোহী চত্বর) নির্মাণে ব্যয় হবে।
প্রস্তাবিত উন্নয়ন ও সুবিধার তালিকা : প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য লেকের পাড় সুরক্ষা ও ঢাল স্থিতিশীলকরণ, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাঁটার পথ সংস্কার, আলোকসজ্জা, সীমানাবেষ্টনী ও নিরাপত্তা রেলিং মেরামত করা হবে। সিসি ক্যামেরা, এনাউন্সমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে বিনোদনের নতুন ব্যবস্থা হিসেবে তিনটি ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার এবং পার্কিং সুবিধা থাকবে। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষা ও সেবার জন্য উদ্ভিদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’, নিরাপদ খাবার পানি এবং জনবান্ধব শৌচাগার ব্যবস্থা থাকবে। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ঠিক বিপরীতে ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমিতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সাংস্কৃতিক পরিসর গড়ে তোলা হবে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি