রসিককে ঢেলে সাজাতে পৌনে ২ হাজার কোটির ২ প্রকল্প

রংপুর ব্যুরো

সারাদেশ

দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট, বেহাল সড়ক ও নাগরিক দুর্ভোগ কাটিয়ে রংপুর নগরকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরে রূপ দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি

2026-10-07T18:36:57+00:00
2026-10-07T18:36:57+00:00
 
  বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রসিককে ঢেলে সাজাতে পৌনে ২ হাজার কোটির ২ প্রকল্প
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম 
রংপুর সিটি করপোরেশন। ছবি : সময়ের আলো
দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট, বেহাল সড়ক ও নাগরিক দুর্ভোগ কাটিয়ে রংপুর নগরকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরে রূপ দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে মোট ১ হাজার ৮১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে দেশের বিভিন্ন খাতের মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

দুটি প্রকল্পের মধ্যে ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় নগরের যোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন করে ১৮৬ দশমিক ১৭ কিলোমিটার অ্যাসফল্ট সড়ক নির্মাণ, ১৩৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অ্যাসফল্ট সড়ক সংস্কার এবং ১১৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার সড়ক মেরামত ও প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি ৩১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক, ১৪৫ দশমিক ৩১ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৫৫ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার সড়কসহ ড্রেন এবং ২২টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ৪২ কোটি ৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

যে দুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছিল আগের প্রতিবেদনে
রংপুর নগরের অবকাঠামোগত দুরবস্থা নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। বিশেষ করে ১১ মে প্রকাশিত ‘সময়ের আলো’র প্রতিবেদনে রংপুর সিটি করপোরেশনকে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-বঞ্চিত নগর হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মতো ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও সিটি করপোরেশনের জন্য উন্নয়ন বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্কলনেও বরাদ্দ ছিল শূন্য।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য প্রায় ৫ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে রংপুর পেয়েছিল মাত্র ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। পরের অর্থবছরে তা নেমে আসে ২০ কোটিতে। এরপর বরাদ্দ শূন্যে নেমে যাওয়ায় নগর উন্নয়নে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়।

একই প্রতিবেদনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবীর বক্তব্যে উঠে আসে, সীমিত নিজস্ব আয় দিয়ে বিশাল আয়তনের এই নগরের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে জরুরি সরকারি সহায়তার প্রয়োজনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

ফাইল থেকে বাস্তবায়নের পথে
দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাব ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা বড় প্রকল্প দুটি এবার একনেকের অনুমোদন পাওয়ায় নগরবাসীর প্রত্যাশা বেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রংপুর সিটির সড়ক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছিল, বিপুলসংখ্যক সড়ক কাঁচা ও খানাখন্দে ভরা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর সড়ক, ড্রেনেজ ও নাগরিক অবকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। ফলে এবারের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু প্রধান সড়ক নয়, নগরের অলিগলি ও বর্ধিত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাতেও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে।

‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলছেন প্রশাসক
দুটি প্রকল্প অনুমোদনের পর রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, রংপুরের উন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।’

তিনি বলেন, অনুমোদিত দুটি প্রকল্প রংপুর নগরীর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্প দুটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বরাদ্দের পর বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন
নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ পেলেও এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—প্রকল্পের কাজ কতটা স্বচ্ছতা, মান ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে।

কারণ রংপুর নগরের সংকট শুধু সড়ক নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজের ঘাটতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট এবং বর্ধিত এলাকার নাগরিক সুবিধার ঘাটতিও দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন প্রকল্পে সড়কের পাশাপাশি ড্রেন ও সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকায় সমন্বিতভাবে কাজ করা গেলে এসব সংকটের একটি বড় অংশ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, অতীতের মতো প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হলেও যেন কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে তারা বঞ্চিত না হন। পরিকল্পিত নকশা, উন্নত নির্মাণসামগ্রী, নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ রংপুর নগরের অবকাঠামোগত চেহারা বদলে দেওয়ার মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

আর দীর্ঘদিনের ‘উন্নয়ন-বঞ্চিত’ রংপুর সিটির জন্য সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   রসিক  প্রকল্প  একনেক  সময়ের আলো  সংকট  বেহাল  সড়ক  নাগরিক  দুর্ভোগ  বেহাল সড়ক  নাগরিক দুর্ভোগ 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: