নামাজের প্রথম কাতারের ফজিলত সম্পর্কে একাধিক হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাই মসজিদে ইমাম ও মুসল্লিদের কাতারের অবস্থান নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে ইমাম যদি মেহরাবে না দাঁড়িয়ে তার এক কাতার পেছনে দাঁড়ান, তাহলে ইমামের পেছনে দাঁড়ানো মুসল্লিদের কাতারটি প্রথম কাতার হিসেবে গণ্য হবে কি না—এ নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে।
ধরা যাক, কোনো মসজিদে ইমাম নিয়মিত মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াচ্ছেন। ফলে মুসল্লিরা মসজিদের প্রচলিত বা চিহ্নিত দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন। এ অবস্থায় কেউ কেউ মনে করতে পারেন, মুসল্লিরা যেহেতু দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়াচ্ছেন, তাই তারা প্রথম কাতারের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু বিষয়টি আসলে এমন নয়।
হাদিস শরিফে নামাজের প্রথম কাতারের যে ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, এর দ্বারা মূলত ইমামের সবচেয়ে নিকটবর্তী পেছনের কাতারকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মসজিদে সেটি চিহ্নিত প্রথম কাতার কি না, সেটি মুখ্য নয়; বরং ইমামের ঠিক পেছনে যে কাতার থাকে, সেটিই ফজিলতের দিক থেকে প্রথম কাতার হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘হাদিস শরিফে যে প্রথম কাতারের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে (মুসল্লিদের) উৎসাহিত করা হয়েছে, তা হলো ইমামের সবচেয়ে নিকটবর্তী কাতার।’ (শরহে মুসলিম : ৪/১৬০)
এ বিষয়ে আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী (রহ.) বলেন, ‘প্রথম কাতার হলো ইমামের সংলগ্ন পেছনের কাতার, যার সামনে আর কোনো মুসল্লি নেই।’ (ফতোয়া শামী : ১/৫৭০)
অতএব, কোনো মসজিদে ইমাম মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পেছনে দাঁড়িয়ে ইমামতি করলে তাঁর পেছনে দাঁড়ানো মুসল্লিদের কাতারটি মসজিদের প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী দ্বিতীয় কাতার হলেও হাদিসে বর্ণিত প্রথম কাতারের ফজিলত থেকে তারা বঞ্চিত হবেন না। কারণ, ইমামের সংলগ্ন পেছনের কাতারই এখানে প্রথম কাতার হিসেবে গণ্য হবে।
তবে ওজর ছাড়া ইমামের জন্য এভাবে মেহরাব ছেড়ে দাঁড়ানো অনুচিত। সাধারণ অবস্থায় ইমামের মেহরাবেই দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ানো উচিত। এ বিষয়ে উমদাতুল কারী (৫/২৫৫) ও মিরকাতুল মাফাতীহ (৩/১৫৭)-এ আলোচনা রয়েছে।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে কোনো সমস্যা নেই এবং ইমামের পেছনে সরাসরি যে কাতারটি হয়েছে, সেটিই প্রথম কাতারের ফজিলতপ্রাপ্ত কাতার হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ইমামের মেহরাবে দাঁড়িয়ে ইমামতি করাই উত্তম।
সময়ের আলো/এসএকে