আলোচিত ইসলামি বক্তা ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দায়িত্বই বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
ধর্ম উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তাকে যখন ফোন করা হয়, তখন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এত বড় দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি প্রস্তুত নন। বরং তিনি নিজেই ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন এবং সরকারের কাছে তার জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দেন।
এরপর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের নতুন খতিব নিয়োগের সময় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা শায়খ আহমাদুল্লাহকে এ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সরকারের বাইর থেকেও অনেকে তাকে দায়িত্বটি গ্রহণে উৎসাহিত করেন। তবে সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন তিনি।
দায়িত্ব দুটি না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি আদর্শ বহুমুখী মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ওই মসজিদে নিজেই জুমার নামাজ পড়াবেন। তার এই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেই মানুষ মসজিদ নির্মাণে মুক্তহস্তে অনুদান দিয়েছেন।
তার মতে, বায়তুল মোকাররমের খতিবের দায়িত্ব নিলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে করা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হতো না। তিনি মসজিদটিকে শুধু উপাসনালয় হিসেবে নয়, বরং সমাজের বহুমুখী কল্যাণের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান।
শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সরকারি পদ বা বড় কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অপরিহার্য নয়। একজন মানুষ নিজের অবস্থান থেকেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।
সময়ের আলো/এসএকে