একসময় অন্যের ব্যবহার করা জিনিস কেনার কথা শুনলেই অনেকে নাক সিটকাতেন। অথচ এখন কম দামে পছন্দের পোশাক, মুঠোফোন, আসবাব কিংবা ইলেকট্রনিক পণ্য পেতে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ বাজারে ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাশ্রয়ী দাম ও পরিবেশ সচেতনতার কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে থ্রিফট শপিং।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের বিপরীতে একটি সরু গলিতে রয়েছে সেকেন্ড হ্যান্ড ইলেকট্রনিক পণ্যের বেশ কিছু দোকান। মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পের পাশের রাস্তাতেও সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বসে এমন দোকান। রাত ১০টার আগেই সেখানে বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়। সেগুনবাগিচা ও পুলিশ প্লাজার পেছনে পাওয়া যায় সেকেন্ড হ্যান্ড আসবাব। ফ্যাশন পণ্য রাজধানীর মতিঝিল, পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকাতেই পাওয়া যায়। ‘ভ্যান শপিং’ নামেও একটি প্রবণতা জনপ্রিয় হয়েছে। উচ্চবিত্তদের অনেককেও গাড়ি থেকে নেমে ভ্যানের ওপর সাজানো এসব পণ্য কিনতে দেখা যায়।
থ্রিফট শপিং এখন সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশ, জাতি বা শ্রেণিভেদ না মেনে অনেকেই এখন থ্রিফট শপিং করছেন। কেউ কেউ একে ভিনটেজ শপিংও বলেন। তবে, কোনো পোশাক বা ব্যবহার্য পণ্যকে ভিনটেজ বলতে হলে সেটি অন্তত ২০ বছরের পুরনো হতে হয়।
তবে, আন্তর্জাতিকভাবে থ্রিফট শপিং জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট ছিল। তখন নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মানুষই মূলত এসব জায়গা থেকে কেনাকাটা করতেন। এখন বেড়েছে সেকেন্ড হ্যান্ড দোকানের সংখ্যা। পোশাক থেকে মুঠোফোন, আসবাবসহ নানা ধরনের পণ্য এসব দোকান থেকে কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
থ্রিফট শপিং জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবেশ দূষণের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে গার্মেন্টসশিল্পের ভূমিকা নিয়ে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন। মহামারির সময় এই সচেতনতা আরও বেড়েছে। পরিবেশ রক্ষায় মানুষের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেকসই ফ্যাশনের গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জনপ্রিয় হয়েছে থ্রিফট শপিং।
ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য কেনাবেচা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ। ঘরের এমন কোনো জিনিস, যা এখন আর বিশেষ কাজে লাগছে না, সেটির ছবি তুলে অনলাইনে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। বিক্রয় ডটকম কিংবা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার হ্যান্ডলের মাধ্যমেও সহজেই ক্রেতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
কম দামে পণ্য পাওয়াও থ্রিফট শপিং জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে নতুন পণ্যের তুলনায় অর্ধেক বা তারও কম দামে পাওয়া যায় ব্যবহৃত পণ্য। ইনস্টাগ্রামে ‘ইশশ’ নামে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড শাড়ি বিক্রির প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। তাদের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শাড়ি অন্তত একবার পরা হলে এর দাম অর্ধেক হয়ে যায়।
ফেসবুকের বাই অ্যান্ড সেল ইন ঢাকা বাংলাদেশ, কালারস ঢাকা, এস্থেজ ডট বিডি এবং ইনস্টাগ্রামের দ্য থ্রিফটশপ বিডি, বাংলাদেশ থ্রিফটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্মে সাধারণত কোনো পণ্যের ছবি পোস্ট করার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি বিক্রি হয়ে যায়।
অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও ব্যবহৃত পণ্য বিক্রি করেন। আবার সেকেন্ড হ্যান্ড পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে মেলার আয়োজনও করে। সেখান থেকেও নামমাত্র দামে বিভিন্ন পণ্য কেনার সুযোগ থাকে।
সময়ের আলো/মহু