গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় মুয়াজ্জিন জহুরুল ইসলাম প্রধানকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের চক মাকড়া (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জহুরুল ইসলাম ওই গ্রামের প্রয়াত মমতাজ প্রধানের ছেলে এবং স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, প্রতিবেশী আকন্দ পরিবারের সঙ্গে জহুরুলের জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ নিয়ে সালিশ হলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ তা মানতে রাজি হয়নি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৯টার দিকে আসামিরা মসজিদের পাশে বিরোধপূর্ণ জমিতে ইটের প্রাচীর গাঁথার উদ্দেশ্যে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। খবর পেয়ে জহুরুল বাড়ি থেকে ছুটে যান এবং মসজিদে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ না করার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে সানোয়ার আকন্দের নির্দেশে জিহাদ আকন্দ কোদালের আছাড় দিয়ে জহুরুলের বুকে জোরে আঘাত করেন। এতে তিনি চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই জহুরুলের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
ওসি মাহফুজ আলম বলেন, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা সবাই নিহতের প্রতিবেশী। তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জহুরুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার রাতে নিহতের স্ত্রী মমিনা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। নামীয় আসামিরা হলেন সানোয়ার আকন্দ (৫৫), জিহাদ আকন্দ (৩২), এরশাদ আকন্দ (৩৪), জিল্লু আকন্দ (৪০) ও মাসুদ আকন্দ (৪৪)।
মসজিদের মুয়াজ্জিনকে এভাবে প্রাণ হারাতে হওয়ায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আতা