আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, রমজান সামনে রেখে ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, গম, চিনিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে রমজানে এসব পণ্যের কোনো সংকট হবে না এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) কার্যালয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট গঠন বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।
মন্ত্রী বলেন, আমদানি ব্যয় কমাতে ফল ও খেজুরের ওপর শুল্ক যৌক্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেজুরের শুল্ক কমানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ঋণের সুদহার কমানো এবং পণ্য পরিবহন ও খালাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা দূর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে বিশেষ করে সবজিসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে সড়কে ১৩ টন ওজনসীমা নিয়ে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, এই সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে।
সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরবরাহ ও বাজারদর পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রাম চেম্বার আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করবে।
তিনি চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে মহাসড়কে আরোপিত ১৩ টন ওজনসীমা প্রত্যাহার এবং মাদার ভেসেল থেকে আমদানি পণ্য খালাসে লাইটার জাহাজ বরাদ্দের সিরিয়াল পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানান। তাঁর মতে, এসব ব্যবস্থার কারণে আমদানি পণ্যের ব্যয় বাড়ছে।
এ ছাড়া লাইটার জাহাজের ভাড়া নির্ধারণের পদ্ধতি পর্যালোচনা এবং এ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোরও দাবি জানান তিনি।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, গত রমজানের মতো এবারও চাল, ডাল, ছোলা, গম, সয়াবিন তেল, পাম তেল ও চিনির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীরা কাজ করবেন। কয়েকটি পরিশোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও চালু থাকা পরিশোধনাগারগুলো চাহিদা পূরণে কাজ করছে।
সভায় সিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী ও প্রকৌশলী আলী আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সহসভাপতি এম এ সালাম, সাবেক পরিচালক এস এম আবু তৈয়বসহ ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন।
সময়ের আলো/জেডি