গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমানায় কাওরাইদ এলাকায় সুতিয়া নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির মূল কাজ শেষ হলেও এখনও তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। স্থানীয়রা বলছেন, যোগাযোগ সহজ হওয়া দূরের কথা, উল্টো ভোগান্তি বেড়েছে তাদের।
এলজিইডি গাজীপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখনও পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রকল্পটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্প। এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থের সংস্থান ছিল না। এ কারণে সারা দেশে এই ধরনের প্রকল্পের কোনো স্কিমেই জমি অধিগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। তারপরও এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমরা সেতুটি নির্মাণ করেছি। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে বলেও জানান গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক।
সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুতে ওঠার জন্য এক পাশে ফেলা হয়েছে মাটি, বসানো হয়েছে মই। সেই মই ও মাটির খাড়া ঢাল বেয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতে ঢাল পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ে। স্থানীয়রা আরও জানান, সংযোগ সড়ক থেকে সেতুটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। এ কারণে সেতুতে ওঠার জন্য তৈরি করা অস্থায়ী মাটির ঢাল বেশ খাড়া। বৃষ্টি হলে সেটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। এ অবস্থায় সেতুর পাশে থাকা রেলওয়ে সেতু ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ ঢালী বলেন, সেতুটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও গাজীপুরের শ্রীপুরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পড়েছে। গফরগাঁওয়ের ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত আটটি ইউনিয়নের মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। পাশাপাশি এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখের বিষয়, সেতু নির্মাণ হলেও সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। এখন মানুষকে মই বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে।
শ্রী মাধব চন্দ্র দাস নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, যেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হবে, সেখানে কারও জমি নেই। পুরো জায়গাটিই বাংলাদেশ রেলওয়ের। ওই জমিতে কিছু মানুষ বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। এটি বাধার কারণ হতে পারে না। এখান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত রেলওয়ের জায়গা রয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু থাকার পরও মানুষের চলাচলের উপযোগী করা যাবে না, এটি সচেতন মানুষ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয় কালি নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পুরো সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু সংযোগ সড়কের জন্য সমস্যা হচ্ছে। এখানে একটি সরকারি, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি বেসরকারি স্কুল রয়েছে। পাশে একটি রেলসেতু আছে, সেখান দিয়েই সবাই চলাচল করছে। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সব শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। বৃষ্টি হলে নতুন সেতু দিয়ে চলাচল করাও খুব কষ্টকর হয়ে যায়। দ্রুত কাজটি শেষ হলে আমাদের জন্য খুবই উপকার হবে।
কালি নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে জায়গাটি অনেক উঁচু ছিল। রডের মতো কিছু দিয়ে সেতুতে ওঠার চেষ্টা করতাম। তখন চলাচল করা খুব কষ্টকর ছিল। এখন মাটি দেওয়া হয়েছে, মই বসানো হয়েছে। এই পথের বিকল্প হিসেবে রেলওয়ে সেতু ব্যবহার করতে হয়। সেটিও খুব ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়কটি তৈরি হলে আমাদের কলেজে যাতায়াত সহজ হবে।
সময়ের আলো/আতা