বিমানের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পাইলট ও সহ-পাইলটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অনেক বিমান সংস্থায় তাঁদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে দুজন যেন একই সঙ্গে অসুস্থ হয়ে না পড়েন।
একসঙ্গে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে
ধরা যাক, বিমানের পাইলট ও সহ-পাইলট একই খাবার খেলেন। সেই খাবার দূষিত হলে বা তাতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকলে দুজনই একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। মাঝআকাশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিমান পরিচালনায় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে অনেক বিমান সংস্থা পাইলট ও সহ-পাইলটের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করে। কিছু সংস্থায় তাঁদের একই সময়ে খাবার না খাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এতে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যজন বিমান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে বিমান সংস্থাভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে।
কী ধরনের খাবার খান পাইলটরা?
পাইলটদের খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘপথের যাত্রায় তাঁদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। কাজের ফাঁকে সহজে খাওয়া যায়, এমন খাবার দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়।
সব বিমান সংস্থায় কি এই নিয়ম আছে?
পাইলট ও সহ-পাইলটের খাবার আলাদা রাখার ব্যবস্থা অনেক বিমান সংস্থায় চালু থাকলেও এটি সব সংস্থার জন্য বাধ্যতামূলক কোনো সর্বজনীন আন্তর্জাতিক নিয়ম নয়। সংস্থাগুলো নিজেদের নিরাপত্তানীতি ও পরিচালনবিধি অনুযায়ী এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উড়োজাহাজ-স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশিকাতেও দুই পাইলটের জন্য ভিন্ন খাবার এবং আলাদা উৎস থেকে খাবার সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মূলত পাইলটদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারণ, যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পাইলট ও সহ-পাইলটের সুস্থ থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে সক্ষম থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/এসএকে