ভোরে চণ্ডীপাঠ ও মহালয়ার তিথির মধ্য দিয়ে সূচনা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের দেবীপক্ষ। মহালয়ার মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার এই আবাহনকে ঘিরে দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ২২টি মণ্ডপে বইছে উৎসবের আমেজ। ইতোমধ্যেই মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমার অলংকরণ, ধোয়ামোছা ও রঙিন সাজসজ্জার কাজ।
চলতি বছর তিথির গণনার কারণে মহা সপ্তমী দুই দিন স্থায়ী হওয়ায় দুর্গাপূজার আরাধনা একদিন বেশি হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুরোহিতরা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) হিলি উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মণ্ডপেই প্রতিমার মূল কাজ শেষ। আয়োজকেরা এখন মণ্ডপের মূল ফটক নির্মাণ, প্যান্ডেল সাজানো এবং আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) ষষ্ঠী তিথিতে অধিবাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। শাস্ত্রীয় তিথির কারণে ১৭ ও ১৮ অক্টোবর (শনিবার ও রবিবার) দুই দিনব্যাপী মহাসপ্তমী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯ অক্টোবর মহা অষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহা নবমী এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়া) এবং গমন হবে নৌকায়।
হাকিমপুর হিলি পৌরসভার গোহাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি জনার্দন চন্দ্র বলেন, আমাদের মণ্ডপে প্রতিমার রং-তুলির কাজ শেষ। এখন মণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা ও প্যান্ডেল সাজানোর কাজ চলছে। আলোকসজ্জা ও মূল ফটকের কাজও শেষ পর্যায়ে। গত বছরের চেয়ে এবার আরও সাড়ম্বরে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছি।
চণ্ডিপুর সরকার সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের পুরোহিত পবিত্র চক্রবর্তী জানান, মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। তিথির সমীকরণের কারণে এবার মহাসপ্তমী দুইদিনব্যাপী চলবে, ফলে ভক্তরা একদিন বেশি মায়ের আরাধনার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হাকিমপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অমিত বসাক (ধলু) জানান, উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নে মোট ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে সরকারি অনুদানের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাদশা আলম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের কমিটির সঙ্গে আমাদের বিট কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে মণ্ডপগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টহল পুলিশ, পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে।
সময়ের আলো/জোই