যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী উপজেলা কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে আগামী ১৬ অক্টোবরের পুনর্বিন্যস্ত পরীক্ষা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশে আয়োজনের জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এনসিপির দফতর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি ও আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি উল্লেখ করে, মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে এবার প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রতিযোগিতা করছিলেন ১ হাজার ৩২০ জন পরীক্ষার্থী। বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ জড়িত থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে না পারা কর্তৃপক্ষের গুরুতর ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
দলটি আরও বলে, পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্নফাঁসের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অথচ পরীক্ষার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও প্রস্তুতির পেছনে বিপুল অর্থ ও কষ্ট ব্যয় করে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন—পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতে তারা যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনি মারাত্মক মানসিক হীনমন্যতা ও চাপের শিকার হয়েছেন।
বিবৃতিতে এনসিপি প্রশ্ন তোলে—প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকে কার্যকর উদ্যোগ কেন নেওয়া হয়নি এবং অভিযোগ উঠার পরও কেন পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর পর স্থগিতাদেশের কথা জানানো হলো? এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এনসিপির স্পষ্ট মত, কেবল পরীক্ষা স্থগিত করেই এই দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। কীভাবে প্রশ্নপত্র বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোন ধাপে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশ ও অগ্রগতির তথ্য জানানোর দাবিও তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আগামী ১৬ অক্টোবরের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, পরিবহন ও সংরক্ষণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হওয়া পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকারের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় লাখ লাখ তরুণ সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে এনসিপি জানায়, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ৩ লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর শ্রম, সময় ও স্বপ্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই