সনাতন ধর্মের ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধুঞ্চি পূর্বপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় ৫২ খণ্ডের প্রতিমা। রাজবাড়ী জেলায় এবার মোট ৪৬১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে, যার মধ্যে কেবল এই একক মণ্ডপেই রয়েছে প্রায় ৭০টি প্রতিমা নিয়ে গড়া বিশাল এই আয়োজন।
দুর্গাপূজার পাশাপাশি এই মণ্ডপে থাকছে শ্রীরামের অকালবোধন ও রাবণবধের বিশেষ থিম শো, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম থেকে কংসবধ পর্যন্ত বিভিন্ন পৌরাণিক ঘটনাবলির প্রদর্শন এবং আদি যোগী শিবের মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে মন্দিরটি পরিণত হয়েছে পৌরাণিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায়।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, অতীতেও এই মন্দিরে ১০৮, ৮৬ ও ৫২ খণ্ডের প্রতিমা নিয়ে পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও প্রায় দুই মাস ধরে ৫ থেকে ৭ জন প্রতিমাশিল্পী দিনরাত পরিশ্রম করে প্রতিমাগুলোর মাটির কাজ শেষে রঙ ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করছেন। বিশেষ এই আয়োজনের কারণে সাধারণ সময়ের চেয়ে দুই দিন পর এখানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
মন্দির কমিটির সহসভাপতি কিশোর কুমার গুহ জানান, ২০১৭ সাল থেকেই তারা এখানে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্যতিক্রমী পূজা করে আসছেন। মণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের আন্তরিক সহযোগিতায় এবারের উৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রীকান্ত কুমার বিশ্বাস রাহুল বলেন, নতুন প্রজন্ম ও দর্শনার্থীদের সনাতন ধর্মের সঠিক ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনি সম্পর্কে ধারণা দিতেই এই উদ্যোগ। রাম-রাবণের যুদ্ধ এবং হনুমানের বিভিন্ন রূপ ফুটিয়ে তোলার এই আয়োজন দর্শনার্থীদের মনে বাড়তি আনন্দ জোগাবে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে মণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, জেলার ৪৬১টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলোতে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। প্রতিটি মোটরসাইকেল টহল দলে দুজন করে পুলিশ সদস্য আশপাশের ১০ থেকে ১৫টি মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যের টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলার চার উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় (পৌরসভাসহ) ১১৮টি, পাংশা উপজেলায় (পৌরসভাসহ) ১০৪টি, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৫৫টি এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় (পৌরসভাসহ) ২৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই