পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, আগামী ১২ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ভারত যদি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ (নিশ্চয়তা অনুচ্ছেদ) অন্তর্ভুক্ত করে এই চুক্তি নবায়ন করে এবং অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করে, তবেই তারা প্রকৃত বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় করতোয়া সেতুর নির্মাণ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ভারতের সমর্থন নিয়ে নানা বিতর্ক ও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তাই আমরা মনে করি, এবার পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান এবং চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি ক্লজ রাখার মাধ্যমে ভারত সেই বিতর্কের অবসান ঘটাবে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় আমরা কোনো আপস করব না।
দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন মীরগড় ও ভজনপুর এলাকার মানুষ একটি টেকসই সেতুর অপেক্ষায় ছিল। গত বুধবার একনেক সভায় ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকেই এর কাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হবে। এ সময় সেতুটি একনেকে পাস হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী আনন্দ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রীকে মিষ্টিমুখ করান।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মাঝে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা অনিয়ম ও মেগা দুর্নীতির চিত্র সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবুসহ সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই সেতুটি নির্মিত হলে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হবে। পাশাপাশি কৃষি পণ্য পরিবহন, উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই