রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে পর্যটনকেন্দ্র রুইলুইয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। অবরোধের কারণে তাদের যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন কর্মসূচির সমর্থকেরা।
খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি টুন্টু মনি চাকমা জানান, পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৩০টি মাহিন্দ্রা ও জিপে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক সাজেকে যান। রোববার সকালে খাগড়াছড়ি থেকে যাত্রা করা পর্যটকেরা বাঘাইহাটের পর আর এগোতে পারেননি।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, অবরোধের কারণে কিছু পর্যটক আগেই সাজেক ছেড়ে গেলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় তিন হাজার পর্যটক রয়েছেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় বেলা দুইটায় পর্যটকবাহী গাড়ি সাজেক থেকে বের হওয়ার এবং একই সময়ে বাঘাইহাট থেকে সাজেকের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।
কেন এই অবরোধ?
আয়োজকদের অভিযোগ, আঞ্চলিক দল জেএসএসের (সন্তু লারমা) সদস্যরা সাজেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আগে সমাবেশ করেও সাড়া না পাওয়ায় অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। দলটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবি, ইউপিডিএফের চাপে সংগঠন দুটি এ কর্মসূচি দিয়েছে। অন্যদিকে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা এ অভিযোগ নাকচ করে কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ফলে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত কখন স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সময়ের আলো/এমকে