পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। রোববার (১১ অক্টোবর) নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে প্রদেশটিতে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সরকারের ক্ষমতা কার্যত সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের লংমার্চকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, মন্ত্রিসভার সুপারিশে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এ সময় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের কথিত নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এদিকে, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সুহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে লংমার্চ করছে পিটিআই। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলী খান। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপকে ‘গুরুতর রাজনৈতিক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে একে অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে গহর আলী খান জানান, তার দল সরকারের এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উল্লেখ্য, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হলেও দেশজুড়ে তার উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন রয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে দলটির আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
সময়ের আলো/ইউএমএইচ