মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মানুষের বসতবাড়ি এবং সরকারি খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড নামে এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এই বালু ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের শিকিরগাঁও গ্রামের ভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই এলাকায় অন্তত ১০ ফুট উচ্চতায় বালু ভরাট করা হয়েছে যা আশপাশের অনেক টিনশেড ঘরের চালের উচ্চতা পর্যন্ত ছুঁয়েছে। ভরাট জায়গার বালুমিশ্রিত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে একটি সরকারি খালও প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী হোসনে আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রভাবশালী একটি চক্র স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে এই বালু ভরাটের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কয়েক দিনের একটানা বালু ভরাটে আমাদের বসতঘরের ভেতর বালু ঢুকে পড়েছে। আমরা এখন কোথায় যাব? প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি।
আরেক ভুক্তভোগী রহিমা বেগম বলেন, মানুষের ঘরের চালের ওপর পর্যন্ত বালু উঠে গেছে। কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে এভাবে বালু ভরাট করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আমরা এই এলাকায় বসবাস করতে পারব না।
বয়োবৃদ্ধ সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শুধু ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গাই দখল করছে না বরং সরকারি খালও দখল করেছে। বালু ভরাটের কারণে পানি খালে পড়ে খালটিও ভরে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গাজীর ব্যাপারী বলেন, বালু ভরাটের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন তারা আমাদের জমি মাপার কথা বলছে। অথচ বালু ফেলার আগেই জমিও সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। এখন বালু ফেলে জমি মেপে কী লাভ? আমাদের দাবি, বাড়িঘরের ওপর থেকে এই বালু কোম্পানির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কামরুল হোসাইন দাবি করেন, আমরা কোনো বালু ভরাট করছি না এবং খালও ভরাট করিনি। স্থানীয় লোকজন নিজেরাই তাদের জমি বালু দিয়ে ভরাট করে আমাদের কাছে বিক্রি করে। আমি এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা হবে।
গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জায়েদ হোছাইন বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পারলাম। আমি দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/এনএন