অর্থনৈতিক সংস্কারে সাড়া বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

রফিক রাফি, থাইল্যান্ড (ব্যাংকক) থেকে

জাতীয়

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক

2026-10-13T02:16:21+00:00
2026-10-13T02:16:21+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
অর্থনৈতিক সংস্কারে সাড়া বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
রফিক রাফি, থাইল্যান্ড (ব্যাংকক) থেকে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উন্নয়ন অর্থায়নে ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে ৪০ বছর করার প্রস্তাব উঠেছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায়। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বহুমুখী অর্থায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। একই দিনে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, কর্মসংস্থান, সাইবার প্রতারণা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়েও বিভিন্ন অধিবেশনে আলোচনা হয়।

সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে ঐকমত্য : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর মৌলিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সংস্কার প্রস্তাবের মিল রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, জিডিপির তুলনায় কর আদায় বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের নীতিগত সমঝোতা রয়েছে।

তার মতে, সরকারের নিজস্ব অগ্রাধিকারের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শের সমন্বয় থাকলে সংস্কার বাস্তবায়ন সহজ হবে। তবে সংস্কারের মূল দায়িত্ব ও মালিকানা রাজনৈতিক সরকারেরই থাকবে। আর্থিক খাতে অনিয়ম ও ঋণসংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুনঃঅর্থায়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। তার ভাষ্য, কর অব্যাহতি ও কর-সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে রাজস্ব আহরণ কমেছে। এতে আর্থিক ঘাটতি বেড়েছে এবং সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়েছে।

জ্বালানি ব্যয়ে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ : বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। সহযোগিতার কাঠামোগত চুক্তি নিয়েও কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় মোকাবিলায় বাংলাদেশের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় কীভাবে তা কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।

রাশেদ আল তিতুমীর জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে সরকার জ্বালানির দাম বাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করেনি। এ ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবার কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ বছরে দারিদ্র্যের হার প্রায় পাঁচ শতাংশ কমতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জলবায়ু ঝুঁকির দেশগুলোর জন্য ৪০ বছর মেয়াদি ঋণের প্রস্তাব : জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত কাঠামো পরিবর্তনের দাবি উঠেছে ১৭তম ভি২০ মিনিস্টারিয়াল কমিউনিকেতে। সোমবার ব্যাংককের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ৭৭টি দেশের অর্থমন্ত্রীরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীও এতে অংশ নেন।

কমিউনিকেতে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর রেয়াতি অর্থায়নের আওতায় ঋণের মেয়াদ ও মূল্য নির্ধারণের মধ্যে আরও সামঞ্জস্য আনার সুপারিশ করা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য ৪০ বছর মেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

ভি২০ জোটের বক্তব্য অনুযায়ী পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো ৫০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত সুফল দিতে পারে। অথচ এসব খাতে প্রচলিত অর্থায়নের মেয়াদ সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর। দীর্ঘমেয়াদি সম্পদের বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং উচ্চ ঋণ পরিশোধ ব্যয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক সেবা সম্প্রসারণে চাপ সৃষ্টি করছে।

২০১৫ সালে পেরুর লিমায় ২০টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ভি২০ জোটের বর্তমান সদস্য ৭৪টি দেশ। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন ও সক্রিয় সদস্য। জোটটির হিসাবে সদস্য দেশগুলোতে প্রায় ১৯০ কোটি মানুষ বসবাস করে এবং দেশগুলো বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। সদস্যদের মধ্যে পাঁচটি দেশ চরম ঋণ সংকটে, ১৭টি উচ্চ ঝুঁকিতে এবং ২২টি মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্ধেকের বেশি সদস্য দেশ সরকারি রাজস্বের ১০ থেকে ২০ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করে। প্রায় এক ডজন দেশ অভ্যন্তরীণ সুদ পরিশোধেই রাজস্বের এক-পঞ্চমাংশের বেশি ব্যয় করে।

জোটটি মনে করে, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও খাদ্য সরবরাহের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে জলবায়ু ও বৈশ্বিক সংকটের ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ : বন্ধ কলকারখানা চালু করা, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থায়নের চেষ্টা করছে বলে জানান রাশেদ আল তিতুমীর। তিনি সাত শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের মাধ্যমে বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তবে এ অর্থায়নের আওতা, শর্ত ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, একদিকে শিক্ষিত ও তরুণ বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে অনেক কলকারখানা বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানো, উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি জানান, চীনের বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। জাপানের টয়োটা ও মারুবেনি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। এ ছাড়া সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক প্লাগ অ্যান্ড প্লে এবং প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

থাইল্যান্ডের সঙ্গে কৃষি ও খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে কৃষিজাত পণ্য, ফল, দুগ্ধজাত পণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তার মতে, আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে অপচয় কমানো, কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ও থাইল্যান্ডের রেনং বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষি, কৃষিজাত পণ্য, সামুদ্রিক যোগাযোগ ও বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ আহরণেও সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা বাড়ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এআইয়ে বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি, বদলাচ্ছে চাকরির বাজার : আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

তার মতে, এআই খাতে বিনিয়োগ এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর জন্য নতুন চাহিদা ও প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এতে এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পয়েন্ট এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। তবে জ্বালানি সরবরাহের ধাক্কা বিশ্ব প্রবৃদ্ধির ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।

অন্যদিকে এআইয়ের কারণে কিছু পেশায় কর্মী নিয়োগের চাহিদা কমছে বলে জানান আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের দিব্যা কীর্তি। ‘চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ ইন দ্য এজ অব এআই’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি বলেন, যেসব পেশায় এআইয়ের কার্যকারিতা বেশি, সেসব ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের চাহিদা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে কোডিং-সংশ্লিষ্ট কাজে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এ প্রবণতা দেখা গেছে।

তবে এআই ব্যবহারে দক্ষ কর্মীদের চাহিদাও বাড়ছে। প্রযুক্তিটির কার্যকর ব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সঙ্গে এআইয়ের সংযোগ এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সক্ষমতা ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তরুণ জনগোষ্ঠীর উপযোগী কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন দক্ষতার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাইবার প্রতারণা রোধে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতার তাগিদ : বার্ষিক সভার আরেক অধিবেশনে সাইবার ও আর্থিক প্রতারণা ঠেকাতে ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় বলা হয়, প্রতারণার ক্ষেত্রে সাধারণত ভুয়া পরিচয় তৈরি, অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোরও প্রতিরোধের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত; শুধু ভুক্তভোগীর ওপর দায় চাপানো যথেষ্ট নয়। এ জন্য আইনপ্রণেতাদের সমন্বিত ভূমিকার কথাও উঠে আসে।

‘শেপিং দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ অধিবেশনে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, কাঁচামাল ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাপ্যতা এবং দক্ষতার ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়। এশিয়ার দেশগুলোকে উন্মুক্ত ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থন করার আহ্বান জানানো হয়।

ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. ভি অনন্ত নাগেশ্বরন কর্মসংস্থানমুখী নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, উন্নত রাজ্যগুলো উন্নত উৎপাদন শিল্পে এগোতে পারে, আর অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে শ্রমঘন শিল্প ও সেবা খাত সম্প্রসারণ করতে পারে।

বার্ষিক সভার আলোচনায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, আর্থিক সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়ন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো পরস্পর সম্পর্কিতভাবে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের জন্য এসব ক্ষেত্রে অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   অর্থনৈতিক সংস্কার  বিশ্বব্যাংক  আইএমএফ  ভঙ্গুর অর্থনীতি  পুনরুদ্ধার  ব্যাংক খাত  শৃঙ্খলা  কর  জিডিপি  কর্মসংস্থান  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: