রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি ব্যাঙ্গাত্মকভাবে রবীন্দ্র সংগীতকে উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া আরও এক পোস্টে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যসাধনা নিয়েও কটাক্ষ করে তীব্রভাবে বিরূপ সমালোচনা করেছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এসব পোস্ট করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ সমালোচনা করেছেন। তবে আম্মারের দাবি ‘প্যারোডি’।
রোববার ‘একটি রঠা সংগীত, রবীন্দ্রনাথের আত্মা ঘুরছে রাকসুতে’ ক্যাপশনে আম্মার রবীন্দ্র সংগীতকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন৷ যেখানে তিনি রবীন্দ্রনাথের গানের সুর অশালীন ভাষায় চর্চা করেন।
ভিডিওটির বিষয়ে আম্মার বলেন, ‘আমি রবীন্দ্রসংগীত পারি, তাই পোস্ট করেছি। রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করব কেন? আমরা যখন থিয়েটার করতাম, তখন নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীতসহ বিভিন্ন গান নিয়ে প্যারোডি করতাম।’
অপর পোস্টটির বিষয়ে আম্মার জানান, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি ও জীবনযাপন-সংক্রান্ত যে পোস্টটি ঘিরে আলোচনা হচ্ছে, সেটি মূলত তার মেধার প্রশংসা করেই করেছেন তিনি। একজন মানুষের মস্তিষ্ক এতটা তীক্ষ্ণ হতে পারে, এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। তাকে অ্যাপ্রিশিয়েট করেই পোস্টটি করা।
আম্মারের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা এবং বিচার দাবি করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, মনগড়া অভিযোগ তুলে বিভিন্নভাবে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রচণ্ড ঘৃণা ও সাম্প্রদায়িকতা লুকিয়ে আছে। এমন একজন ব্যক্তি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী মাতিন আকন্দ বলেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই একজন জিএসের এমন দাবি করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আম্মারের এসব বিতর্কিত পোস্ট নিয়েও তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন অনেকে।
সময়ের আলো/আতা