চকবাজারে আগুনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা গলির মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ষষ্ঠ তলায় থাকা দোকান ও

2026-10-13T10:59:57+00:00
2026-10-13T10:59:57+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
চকবাজারে আগুনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা গলির মনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ষষ্ঠ তলায় থাকা দোকান ও গোডাউনের মালামাল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। কেউ গোডাউনে রাখা প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন, আবার কেউ কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে নিরাপত্তার কারণে আশপাশের ভবন ও দোকান বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অন্য ব্যবসায়ীরাও।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালেও আগুন লাগা ভবনের সামনে উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। ভেতরে থাকা মালামাল ফিরে পাওয়ার আশায় অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন তারা। অনেকের আশঙ্কা, আগুনে শেষ হয়ে গেছে তাঁদের সারা জীবনের পুঁজি।

গোডাউন মালিক মো. রবিন বলেন, সাততলা ভবনটির পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় কসমেটিকস ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। তাঁর গোডাউন ষষ্ঠ তলার ডান পাশে, আর আগুনও লেগেছে ওই তলায়।

রবিন বলেন, ‘গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। এখন যদি সব পুড়ে যায়, আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।’

তিনি জানান, ভবনের এই তিন তলায় ৫০টির বেশি গোডাউন রয়েছে। প্রতিটি গোডাউনে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মালামাল আছে। নিচের তলাগুলোতে ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকান রয়েছে।


আগুন লাগার খবর পাওয়ার বিষয়ে রবিন বলেন, আগুন মূলত ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় গোডাউন থাকায় সেখানে সাধারণত কেউ থাকেন না। মালামাল নেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবসায়ীরা সেখানে যান। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে নিচের দোকানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পান তিনি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ভবনের ভেতরে যেতে পারেননি।

ভবনের নিচতলায় ব্যাগের দোকান রয়েছে মো. ইমতিয়াজের। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকেল ৫টায় আগুন লেগেছে, আর আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে এত সময় লাগল কেন, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।’

ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে ইমতিয়াজ আরও বলেন, ‘আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে, সকালে মালিক, বিকেলে ফকির। ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে আগুন এখন পর্যন্ত জ্বলছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, এমন সরঞ্জাম আনা হোক, যাতে উন্নত বিশ্বের মতো দ্রুত আগুন নেভানো যায়।’

তিনি বলেন, ভবনটিতে কোটি কোটি টাকার মালামাল রয়েছে। আগুন যথাসময়ে নিয়ন্ত্রণে না আসায় অনেক ব্যবসায়ী পথে বসে গেছেন।

অন্য গোডাউন মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় তাঁরা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছেন না। গোডাউনে থাকা মালামাল আদৌ রক্ষা পেয়েছে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করছেন তাঁরা। আগুন দীর্ঘ সময় ধরে ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় জ্বলতে থাকায় কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ছোট কাটারা গলিতে সরেজমিনে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। দোকান বন্ধ থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


আগুন লাগা ভবনের পাশের একটি ভবনে কসমেটিকসের দোকান রয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের। তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকেল থেকে আমাদের দোকান বন্ধ। এত দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। আমরা চাই, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক, যাতে আবার ব্যবসা করতে পারি।’

ভবনের দারোয়ান মো. মজিবুল্লাহ বলেন, ‘গতকাল বিকেল ৫টায় আগুন লেগেছে। শুধু পানি দিয়ে বিল্ডিং ভরে ফেলছে। ভেতরে আগুন জ্বলছে, ধোঁয়া বের হচ্ছে।’

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের সদরদফতরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, মনসুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে ১০টি ইউনিট কাজ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আগুনে মার্কেটটির ষষ্ঠ তলার সব মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন নেভানোর সময় তীব্র ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী। সরু রাস্তা ও ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে বলেও জানায় ফায়ার সার্ভিস।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা কাটেনি। গোডাউনের দরজা খুলে ভেতরের মালামাল দেখার আগপর্যন্ত তাঁরা জানতে পারছেন না, ক্ষতির পরিমাণ কতটা। কারও কয়েক দশকের ব্যবসার পুঁজি, আবার কারও পরিবারের জীবিকার অবলম্বন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   চকবাজার  আগুন  সর্বস্ব হারানো শঙ্কা  ব্যবসায়ী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: