মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পোশাকশ্রমিক রাশেদুল ইসলামকে (৩৮) ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় ছয় দিন পর তার স্ত্রী হাসনা আক্তারকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর হাসনা পালিয়ে অরঙ্গবাদ গ্রামের এক নারীর বাড়িতে আত্মগোপন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রেজাউল করিম পিপিএমের নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
নিহত রাশেদুল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার এসকেএইচ গার্মেন্টসে স্যাম্পল সুপারভাইজার ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধল্লায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীর নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া নিয়ে রাশেদুল ও হাসনার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ৭ অক্টোবর রাতে ছেলে তাওহিদকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রাশেদুল। পরদিন ভোর পৌনে চারটার দিকে ছেলের ঘুম ভাঙে বাবার চিৎকারে। এ সময় সে বাবাকে ছুরিকাহত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও রাশেদুলের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মামা মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসনা আক্তারকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘হাসনা আক্তার স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
সময়ের আলো/মহু