বিএনপির দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতন, কারাবরণ ও ত্যাগ স্বীকার করা নেতা-কর্মীরা বর্তমান সরকারের আমলে ভালো নেই বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মামুন খান। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে সরকার গঠিত হলেও তারা এখন অবহেলা ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিএনপি তার নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের হারাবে এবং এর প্রভাব সরকার ও দেশের ওপরও পড়বে বলে সতর্ক করেছেন মামুন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসের শুরুতে নিজের পরিচয় দিয়ে মামুন খান লেখেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা দাবি করেন, গত ১৫ বছরে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের তালিকা তার কোনো শত্রুকে দিয়ে তৈরি করালেও সেখানে তার নাম থাকবে।
মামুনের অভিযোগ, তার মতো যেসব সহযোদ্ধার নাম নির্যাতিতদের তালিকায় থাকবে, তারা এখন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের কাছ থেকে এক গ্লাস পানিও পাননি। চাঁদাবাজি বা ধান্ধাবাজির মতো বিষয় তো পরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করালেও তাদের কর্মকাণ্ডে কেউ লাল কালি দিতে পারবে না।
চিঠিতে নিজের ও সহযোদ্ধাদের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মামুন খান বলেন, তারা কী পেয়েছেন বা পাননি, সেটি নিয়ে তাদের কষ্ট নেই। তবে তাদের রক্তের বিনিময়ে আসা সরকার তাদের প্রতিদিন তিলে তিলে কষ্ট দিচ্ছে—এটাই তাদের বেদনার কারণ।
তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে কাতরানোর সময় ‘ভাইয়া’ ফোন করে খোঁজ নিলেই তারা সুস্থ হয়ে ওঠার শক্তি পেতেন। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কারাগারে কাটিয়ে বের হওয়ার পর তাকে ফোনে সালাম দিতে পারলেই থানা, গারদ, রিমান্ড ও কারাগারের যন্ত্রণা ভুলে যেতেন।
মামুন খানের ভাষ্য, বর্তমানে তারা শুধু শারীরিক বা মানসিক কষ্টে নন, সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক—সব দিক থেকেই গভীর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো নেতা-কর্মীর আত্মহত্যার চিঠি প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পৌঁছানোর আগেই তাদের দুরবস্থার খবর যেন তার কাছে পৌঁছায়, সেই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মামুন লেখেন, তিনি এখন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হলেও তাদের কাছে তাদের সেই ‘ভাইয়া’ ও অভিভাবক। তার দাবি, রাজপথের ৯৫ শতাংশ প্রকৃত নেতা-কর্মী ভালো নেই।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি এমন এক বিশাল কর্মীবাহিনী হারাবে, যারা গত ১৫ থেকে ২০ বছর নিজের খরচে, শ্রম, ঘাম ও রক্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলেছেন। তাদের ভাষায়, তারা ভালো না থাকলে বিএনপি সরকারও ভালো থাকবে না, আর সরকার ভালো না থাকলে দেশও ভালো থাকবে না।
প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মামুন খান বলেন, তার এই আবেদন আমলে নিলে আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের ওপর রহমত করবেন। আর তা উপেক্ষা করা হলে একদিন পুরো সরকারকে অনুশোচনা করতে হবে, যখন সংশোধনের আর সময় থাকবে না।
সমেয়র আলো/জেডআই