রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশে বিএনপি নেতারা প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানান। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাজে সহযোগিতা ও এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার কথা জানিয়েছে।
সমাবেশে বিএনপি নেতারা অভিযোগ তোলেন, জামায়াত-জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পলাতক ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের সাথে সমন্বয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেছে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কাঁকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল সরকার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব, সহসভাপতি মোস্তফা ও নাসির উদ্দিন বাবু। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের যুবদল, ছাত্রদল এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, সোমবার দুপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ইউএনও ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। এতে দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন ।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সার ডিলার নিয়োগে নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং কয়েকজনের দোকান বা গুদাম না থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে, এজাহারের বলা হয়েছে, ফটকে তালা দেওয়ার ফলে ছয়টি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রত্যাশীরা ভেতরে আটকে পড়েন। এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সরকারি সেবা প্রদান ব্যাহত হয়।
সময়ের আলো/আতা