ছবি : সংগৃহীত আগামী বছর আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। হাতে সময়ও নেই খুব বেশি। বৈশ্বিক আসরের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রস্তুতির মঞ্চেই যদি ব্যাটিংয়ের এমন ভঙ্গুর চিত্র দেখা যায়, তাহলে বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়াটাই স্বাভাবিক। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ড্রয়ের পর ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল টাইগারদের। টেস্ট খেলার কারণে সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও পেয়েছিল দল। অথচ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই কি না জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হার। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ থেমেছে মাত্র ১৭২ রানে। ব্যাটিংয়ের এমন ধস বিশ্বকাপের আগে দলের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
লক্ষ্যটা অসম্ভব ছিল না। শুরুটাও ছিল আশাব্যঞ্জক। কিন্তু সেই শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার কিংবা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সামর্থ্য দেখাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইনআপ। জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করা তো দূরের কথা, লড়াই জমিয়ে তোলার মতো প্রতিরোধও গড়তে পারেননি তাওহিদ হৃদয়রা। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতায় হতাশ পেসার তাসকিন আহমেদ। বল হাতে শুরুতেই জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে আঘাত হেনে তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বোলারদের সেই প্রচেষ্টা কাজে লাগাতে পারেনি ব্যাটিং বিভাগ। ম্যাচ শেষে তাই ব্যাটারদের কাঠগড়ায় তুলেছেন তাসকিন। তার মতে, দক্ষতার অভাব নয়, বরং ধারাবাহিকতা, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলা এবং চাপ সামলানোর মানসিকতার ঘাটতিই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের বড় দুর্বলতা।
তাসকিনের বিশ্বাস, আবুধাবির এই উইকেটে জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করে জেতার সামর্থ্য বাংলাদেশের ছিল। কিন্তু ব্যাটাররা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেননি। তিনি বলেন, ব্যাটিংয়ে কার্যকর জুটি গড়ে তুলতে না পারার ব্যর্থতাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলে মনে করেন এই পেসার। এমন লক্ষ্য তাড়া করে দলকে জেতানোর দায়িত্ব ব্যাটারদেরই ছিল। কিন্তু কেউই সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। তাসকিনের ভাষায়, ‘ব্যাটিংয়ের দিক থেকে বললে, আমি মনে করি এই ম্যাচটা আমাদের ব্যাটারদেরই জেতানো উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যবশত তারা তা পারেনি। তবে এখনও একটা ম্যাচ বাকি আছে।’
বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ সাম্প্রতিক তুলনামূলক ভালো করলেও ব্যাটিংয়ে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ভাবাচ্ছে দলকে। একটি ম্যাচে ভালো শুরুর পরও সেই ভিত কাজে লাগিয়ে বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা রান তাড়ায় এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে না দল। বারবার একই ভুলের কারণে ব্যাটিং বিভাগকে খেসারত দিতে হচ্ছে। এ নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল করা হচ্ছে। সে তুলনায় বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা কিছুটা হলেও ভালো।’ ব্যাটারদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য নিয়ে অবশ্য কোনো সংশয় নেই তার। বাংলাদেশের ব্যাটাররা অতীতে নিজেদের প্রমাণ করেছেন, খেলেছেন দারুণ সব ইনিংসও। কিন্তু দলীয় প্রয়োজনে সেই সামর্থ্যরে ধারাবাহিক প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে চাপের মুখে দ্রুত ভেঙে পড়ার প্রবণতাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন তাসকিন।
ব্যাটারদের ব্যক্তিগতভাবে ভালো ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও দলের প্রয়োজনে নিয়মিত অবদান রাখতে পারছেন না তারা। কখন আক্রমণাত্মক হতে হবে, কখন উইকেট আগলে রেখে জুটি গড়তে হবে, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তাসকিন। তার ভাষায়, ‘আমাদের যেসব ব্যাটার আছে, তাদের কিন্তু অতীতে দারুণ সব ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সমস্যাটা হচ্ছে ধারাবাহিকতায়। আমাদের এই ধারাবাহিকতা আর ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার সামর্থ্য বাড়াতে হবে, অন্তত আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটাই মনে করি।’
তবে সমালোচনার পাশাপাশি সতীর্থদের পরিশ্রমের ওপর আস্থাও রেখেছেন তাসকিন। তার বিশ্বাস, ব্যাটাররা নিজের ভুল বুঝতে পারবেন এবং দ্রুত সেগুলো শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। ত্রিদেশীয় সিরিজে সামনে আরও একটি ম্যাচ থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগানোর প্রত্যাশা তার, ‘আমি নিশ্চিত আমাদের ব্যাটাররা অনেক পরিশ্রম করছে এবং আশা করি তারা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে সামনের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ সামনে আরও একটি ম্যাচ বাকি আছে, তবে এই সমস্যাগুলো খুব দ্রুতই সমাধান করা জরুরি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানের এই হার তাই কেবল একটি ম্যাচের পরাজয় নয়, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতাগুলোরও স্পষ্ট বার্তা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি