ছবি : সংগৃহীত দেশজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। আর সদস্য সচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে কমিটির অন্য সদস্য কারা থাকবেন, কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং কত দিনের মধ্যে কমিটি গঠন সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে পালন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ এবং এরপর থেকে মাসব্যাপী অনুষ্ঠেয় ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সোমবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীন ও নিরাপদে পালন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই দেশের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মতবিনিময় সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য, সংযম, মন-চেতনার শুদ্ধি এবং ঐতিহ্যগত ফানুস উড়ানো ও কঠিন চীবর দানের পবিত্রতা তুলে ধরেন। নেতারা মন্ত্রীর কাছে সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোর তালিকা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান।
মন্ত্রী বলেন, তালিকা পেলে সেটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে। তিনি বলেন, আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা এবং বিশেষ করে সন্ধ্যায় ফানুস ওড়ানো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে (বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে) যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, চলমান দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা ব্যবহারসহ অ্যাপভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি