৯ মাসে নদী-খাল ও জঙ্গল থেকে উদ্ধার ৪৯১ মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সারা দেশের নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৪৯১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মব

2026-10-20T03:24:22+00:00
2026-10-20T03:24:22+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
এইচআরএসএসের প্রতিবেদন
৯ মাসে নদী-খাল ও জঙ্গল থেকে উদ্ধার ৪৯১ মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৪ এএম 
এইচআরএসএস-এর লোগো। ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে সারা দেশের নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৪৯১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৮৭ জনের। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৭৩ জনের। এ ছাড়া কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ বন্দি।

একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১২ জনের। রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাতের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা, গণপিটুনি এবং কারাগারে মৃত্যুর এসব ঘটনা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন-হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশের নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডের ৪৬৫টি ঘটনায় ৪৯১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৪৬টি বস্তাবন্দি, ৮৭টি ঝুলন্ত অবস্থায় এবং ৭৪টি মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ৩৫টি মরদেহের গলা কাটা এবং ৩১টির হাত-পা বাঁধা ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নয় মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন, আহত হয়েছেন ৪০১ জন। গত নয় মাসে কারাগারে ৯৫ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ জন কয়েদি ও ৫৫ জন হাজতি। মৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০, বিএনপির একজন এবং সাধারণ বন্দি হিসেবে নথিভুক্ত ৭৪ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে হেফাজত ও নির্যাতনে ১২, গুলিতে দুজন এবং ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ তিনজন নিহত হয়েছেন। বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় পড়ে, পানিতে ডুবে ও অন্য কারণে আরও অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ৬ হাজার ৪৭৩ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অন্য দলগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে।

এ ছাড়া বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষের ৪৭টি ঘটনায় আহত ৩২০ জন এবং আওয়ামী লীগ-এনসিপির পাঁচটি ঘটনায় আহত হন ৫৮ জন। আওয়ামী লীগ-জামায়াতের দুটি সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একজন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-অন্যান্য দলের ১২৮টি ঘটনায় আহত ৩২০ জন এবং অন্যান্য দলগুলোর ৭৪টি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও ৪০৫ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৪৬, জামায়াতের ৮ ও আওয়ামী লীগের ৬ জন। এ ছাড়া একজন চরমপন্থি, একজন সাধারণ নারী এবং অন্যান্য দল বা রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১১ জন রয়েছেন।

নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৬২৩ জন আহত হয়েছেন। গত ৯ মাসে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন ৫ হাজার ৬৪৪ জন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪ হাজার ৮২৭, বিএনপির ৬০৯, জামায়াতের ১৪৫, এনসিপির ৪৩ এবং চরমপন্থি গোষ্ঠীর ৩৭ জন রয়েছেন। এ ছাড়া নিয়মিত অভিযান ও বিভিন্ন অভিযোগে ৬৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছে এইচআরএসএস। গত ৯ মাসে সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার, যাদের ৩৯২ জনই ১৮ বছরের কম বয়সি। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩০ জন; ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে এবং ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন দুজন। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৬৯৬ জন। পারিবারিক সহিংসতায় ৪৫৭ নারী নিহত। একই সময়ে ১ হাজার ৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে; তাদের মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

গত ৯ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও ৩৯০ শ্রমিক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হামলার ৪৩টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ২৪টি সহিংসতায় একজন নিহত, ছয়জন আহত ও ৮৩ জন আটক হয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে আটজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন,মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 






  বিষয়:   উদ্ধার  মরদেহ  এইচআরএসএস  প্রতিবেদন 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: