প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪১ এএম
ইশরাক হোসেন ও তার স্ত্রী ব্যারিস্টার নুসরাত খান। ছবি : সংগৃহীতমুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন তার স্ত্রী ব্যারিস্টার নুসরাত খান। সোমবার বিকেলে ফেসবুকে মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ক্ষমতাবিষয়ক একটি উদ্ধৃতি পোস্ট করেন তিনি। পরে পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে দেওয়া পোস্টে নুসরাত খান লেখেন, ‘Power properly understood is nothing but the ability to achieve purpose. It is the strength required to bring about social, political and economic change.’
উদ্ধৃতিটির বাংলা অর্থ, ‘যথাযথভাবে বুঝলে ক্ষমতা হলো লক্ষ্য অর্জনের সামর্থ্য। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনার জন্য যে শক্তি প্রয়োজন, ক্ষমতা হলো সেটিই।’
এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর তাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দাবি করেন, মাদক সেবন ও বিক্রির আখড়া উচ্ছেদে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নেওয়া উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক সরবরাহের চক্র ভেঙে দেওয়া এবং এর সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের শনাক্ত করা। কিন্তু গণমাধ্যমে সেই উদ্দেশ্যের বদলে ‘অস্ত্র’, ‘ইশরাক’ ও ‘অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান’-এর মতো শব্দকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইশরাকের ভাষ্য, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যম প্রতি ঘণ্টায় বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তার অভিযোগ, এতে মূল ঘটনা থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের এমন একপেশে প্রচারণাকে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ইশরাক। তার দাবি, এ পরিস্থিতিতে দল ও সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক কর্মকাণ্ড আড়ালে না পড়ে, সে জন্যই তিনি স্বেচ্ছায় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রতি মাদকের মূল আস্তানা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নেতিবাচক শিরোনামের বদলে দেশ ও আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখার উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সময়ের আলো/জেডি