শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া মেধাবী তরুণদের একটি অংশ স্থায়ীভাবে সেখানেই থেকে যাচ্ছে। উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষা, দেশে যোগ্যতার মূল্যায়নের অভাব, দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তাকে এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখছেন ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার মতে, মেধা পাচার ঠেকাতে দেশে গবেষণার সুযোগ ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
পোস্টে আহমাদুল্লাহ লেখেন, স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস তাকে নতুন এক সামাজিক প্রশ্নের মুখোমুখি করেছিল। ওই তরুণের আনন্দ কি উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার, নাকি উন্নত জীবনের হাতছানি এবং বিদেশে স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনার?
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত দেশগুলোতে যাচ্ছে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ছে।’ তার দাবি, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অনেক উন্নত দেশ পর্যটন ভিসার তুলনায় বেশি সংখ্যায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যু করে। কোনো কোনো দেশের ক্ষেত্রে এই হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি।
আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, এসব দেশের কমতে থাকা জন্মহার ও দক্ষ কর্মীর চাহিদার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার প্রবণতা রয়েছে। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি কিংবা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিয়ে তারা মেধাবী তরুণদের নিজেদের শ্রমবাজারে যুক্ত করতে চায়।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিরোধিতা না করলেও দেশের অর্থায়নে গড়ে ওঠা মেধা অন্য দেশের উন্নয়নে ব্যয় হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, নিছক উন্নত জীবনযাপনের জন্য বিদেশে স্থায়ী হওয়া দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে, তরুণদের দেশত্যাগের জন্য শুধু তাদের ভোগবাদী মানসিকতাকে দায়ী করতে চান না আহমাদুল্লাহ। তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত, স্থিতিশীল ও বাসযোগ্য দেশ হয়ে উঠতে পারেনি। দেশে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না, ঘুষ ও পরিচয় ছাড়া চাকরি পাওয়া কঠিন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অস্থিরতা রয়েছে। এসব কারণে মেধাবী তরুণদের দেশে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দুর্বল হয়ে পড়ছে।
পোস্টে তরুণদের দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, সবাই যদি নিরুপদ্রব জীবনের আশায় বিদেশে চলে যায়, তাহলে পরিবর্তন আনবে কে? তরুণদের সামনে দেশ ও সমাজের জন্য ত্যাগ স্বীকারের মতো আদর্শ ও লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
মেধা পাচার রোধে কয়েকটি পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন আহমাদুল্লাহ। এর মধ্যে রয়েছে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা নিশ্চিত করা।
তার মতে, তরুণদের ভোগবাদী জীবনের বদলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ও দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
সময়ের আলো/মহু