প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান
গ্রাফিক : সময়ের আলো বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং একমাত্র দূরশিক্ষণভিত্তিক বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের মতো জনবহুল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্যপূর্ণ ও আর্থ-সামাজিকভাবে অসম একটি দেশে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প ও নমনীয় শিক্ষাধারার প্রয়োজনীয়তার বাস্তবতা থেকেই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। ১৯৭৮ সালে স্কুল ব্রডকাস্টিং পাইলট প্রকল্প, ১৯৮৩ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডিস্ট্যান্স এডুকেশন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দূরশিক্ষার যে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে উঠেছিল, বাউবি তারই বিকশিত রূপ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন হলো ‘সবার জন্য শিক্ষা’ এবং কর্মমুখী জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। এই দর্শনের অন্তর্নিহিত প্রত্যয় হচ্ছে— শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বয়স, শ্রেণি, পেশা কিংবা ভৌগোলিক অবস্থানের মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বার থাকবে উন্মুক্ত। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন কিংবা নিয়মিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন না, তাদের জন্য নমনীয় ও দূরশিক্ষণভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই বাউবি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সময়, স্থান ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মানসম্মত শিক্ষা সহজলভ্য করা, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, কর্মমুখী জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে মানবসম্পদকে সমৃদ্ধ করা এবং শিক্ষা ও কর্মজীবনের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ রচনা করা— এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষকে জীবনব্যাপী জ্ঞানার্জন, আত্মোন্নয়ন ও সক্ষমতা বিকাশে উদ্বুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মৌলিক অভীষ্ট।
বাউবি তার অগ্রযাত্রার ৩৪তম বর্ষে উপনীত হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে এক যুগান্তকারী স্থান দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল ‘স্কুল অব এডুকেশন’-এর বিএড প্রোগ্রাম প্রবর্তনের মাধ্যমে। সময়ের আবর্তে বাউবি আজ একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাউবিতে স্কুল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭টিতে। এগুলো হলো— স্কুল অব এডুকেশন, স্কুল অব সোশ্যাল সাইন্সেস হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ, ওপেন স্কুল, স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ডেভেলমেন্ট এবং স্কুল অব ল। এই স্কুলগুলোর অধীনে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি), স্নাতক (পাস কোর্স), স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি এবং বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানে বাউবিতে ৫৫টি একাডেমিক প্রোগ্রামে দূরশিক্ষণ বা ওপেন অ্যান্ড ডিস্ট্যান্স লার্নিং পদ্ধতি ও ব্লান্ডেড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। একাডেমিক সম্প্রসারণের আওতায় বিভিন্ন স্কুলে আরও বেশ কিছু প্রোগ্রাম চালুর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শুধু একাডেমিক কার্যক্রমেই নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রেও বাউবি প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গাজীপুরে অবস্থিত মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং প্রায় দেড় হাজার স্টাডি সেন্টার। এই বিস্তৃত শিক্ষা নেটওয়ার্ক বাউবিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত আসন ও নির্দিষ্ট ক্যাম্পাসনির্ভরতার বিপরীতে বাউবির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পাঠ্যসামগ্রী প্রণয়ন, মুদ্রিত ও ইলেকট্রনিক শিক্ষা উপকরণ তৈরি, নিজস্ব আধুনিক মিডিয়া সেন্টারে মাধ্যমে অডিও-ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তা প্রচার, টিউটোরিয়াল কার্যক্রম, পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীসেবা প্রদানের জন্য স্বতন্ত্র পরিচালনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। শুধু দেশের গণ্ডিতেই আজ বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে ইতিমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও ৪টি দেশে বাউবি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। দেশ ও দেশের বাইরে বাউবির এই ভৌগোলিক বিস্তার এর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পরিচায়ক।
বাউবির একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (আইটিভিইটি)। কর্মমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ শিক্ষা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা বৃদ্ধি করে— যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে অত্যন্ত সহায়ক। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই শিক্ষার মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব হ্রাস, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। এই বাস্তব প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়েই বাউবি প্রতিষ্ঠা করেছে আইটিভিইটি। এতে সরকারের শিক্ষানীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তৃতীয় ভাষা শিক্ষারও সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশের কওমি ধারার মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আধুনিক ও দেশের মূল ধারা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ‘নিশ-৩’ প্রোগ্রামের আওতায় চালু হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি প্রোগ্রাম। এ জন্য তাদের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞ সহায়তায় কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়ন সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালে জানুয়ারি মাসে এ শিক্ষার সূচনা হলে তা বাংলাদেশের শিক্ষার ক্ষেত্রে নবদিগন্তের দ্বার উন্মোচন করবে।
অবিরত চর্চার মাধ্যমে বিদ্যমান জ্ঞানের বিকাশ ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃজন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অভীষ্ট লক্ষ্য এবং দায়িত্ব। বাউবি এ ক্ষেত্রেও তার সক্ষমতার প্রমাণ রাখছে। কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য বাউবিতে রয়েছে কয়েকটি সমৃদ্ধ গবেষণাগার। দেশি-বিদেশি বিভ্ন্নি বিশ্ববিদ্যলয়সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বাউবি গবেষণা বিনিময়সহ একাডেমিক উৎকর্ষতা বিধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির সঙ্গে বাউবির সমঝোতা স্মারক সম্পাদন বাউবির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারের জন্য ডিওআই নম্বর যুক্ত একটি কেন্দ্রীয় জার্নালসহ এবং ৭টি স্কুলের নিজস্ব জার্নাল প্রকাশ নিয়মিতকরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণেও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাউবির ডিজিটাল রূপান্তর এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন। অনলাইন ভর্তি ও নিবন্ধন, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, ই-অ্যাটেনডেন্স, পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক অটোমেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসেবা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বাউবি তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে।
একই সঙ্গে শ্রমবাজার ও জাতীয় উন্নয়নের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়ন, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স, মাইক্রোক্রেডেনশিয়াল ও পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নারী, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক ও কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারেও প্রশাসন সচেতন। সম্পূর্ণ ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মুদ্রিত পাঠ্যসামগ্রীর পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ক্লাউডভিত্তিক পোর্টালের ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা যেকোনো স্থান থেকে পাঠদান ও শিক্ষাসেবায় যুক্ত হতে পারেন।
এ জন্য শিক্ষকদের ডিজিটাল পেডাগজি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ এবং আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক ও স্টাডি সেন্টারগুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট লার্নিং হাব’-এ রূপান্তর করা জরুরি। পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যৌথ কোর্স, গবেষণা এবং শিক্ষাসামগ্রী বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার বৃদ্ধির লক্ষে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ই-নথি এবং সম্পূর্ণ অটোমেশন বাস্তবায়ন করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থী সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অতীতের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্ব ও সম্ভাবনাকে নতুন করে উপলব্ধি করার এক তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ। এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের প্রত্যাশা, বাউবি তার প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন— সবার জন্য শিক্ষা, সুযোগের সমতা ও জীবনব্যাপী জ্ঞানচর্চাকে ধারণ করে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর ও গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। যেখানে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গুণগত উৎকর্ষ, একাডেমিক মান, উদ্ভাবন ও শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গবেষণার উৎকর্ষ, দক্ষ মানবসম্পদ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে বাউবি হবে একটি বিশ্বমানের জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি