পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

সম্পাদকীয়

মতামত

প্রতিটি মৃত্যুই বেদনার। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা শোকাহত হন। তবে কিছু মৃত্যুর ঘটনা পরিবার বা সমাজের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশের মানুষকেই

2026-10-19T05:08:58+00:00
2026-10-19T05:08:58+00:00
 
  সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড
পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
প্রতিটি মৃত্যুই বেদনার। প্রিয়জনের মৃত্যুতে স্বজনরা শোকাহত হন। তবে কিছু মৃত্যুর ঘটনা পরিবার বা সমাজের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশের মানুষকেই বেদনার্ত করে। কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা দেশবাসীর হৃদয় বিদীর্ণ করেছে। সেখানে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন সদস্য রয়েছেন। তবে নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিখোঁজ আরও একজনের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চলছে। এই দুর্ঘটনায় অনেক পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্বজন হারানোর এই বেদনা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। 

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সমুদ্রের তীব্র বাতাস আগুনের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত ও আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না বলে জানা গেছে। 

নির্মাণের মাত্র সাত থেকে আট মাসের মধ্যে দুর্ঘটনার শিকার হলো রিসোর্টটি। এসব তথ্য সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর যথাযথ তদারকি করেছে কি না। কোনো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আগে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ পর্যটকরা মূলত বিনোদনের জন্য কক্সবাজার পর্যটনকেন্দ্রে যান। তাদের বিনোদন সুসংহত করার জন্য অবকাঠামো ঝুঁকিমুক্ত করা প্রয়োজন।

কোনো কারণে আগুন লাগলে পর্যটকদের নিরাপদে রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কি না সেই প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটনকেন্দ্রে মানুষ বিশ্রাম নিতে ও আনন্দ উপভোগ করতে যান। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকা অপরিহার্য। আগুন লাগলে দ্রুত সতর্কসংকেত দেওয়া, নিরাপদ পথে বেরিয়ে আসা এবং আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বহুতল ভবন কিংবা কাঠের স্থাপনায় এসব প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও বেশি। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন।
 
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিকসহ ২৩ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ব্যবস্থাপককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে মামলা বা গ্রেফতারই যেন তদন্তের শেষ পরিণতি না হয়। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে। ভবন নির্মাণের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা, ফায়ার লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকিতে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সাত সদস্যের তদন্ত কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে এর প্রতিবেদন দিতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা জরুরি।

উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান, মরদেহ হস্তান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলো যেন প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পেতে ভোগান্তিতে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য জরুরি। তাই শুধু এই রিসোর্ট নয়, দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল ও রেস্তোরাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করতে হবে। অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম স্থাপন, জরুরি নির্গমনপথ নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব কাজে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। কক্সবাজারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ করে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   পর্যটনকেন্দ্র  নিরাপত্তা  নিশ্চিত 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: