প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
অ্যানথ্রপিক। সংগৃহীত ছবি মানুষের হয়ে পণ্যের দাম কমানো, গ্রাহকের অভিযোগের সমাধান করা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে বেশি বেতনের প্রস্তাব আদায়ে কাজ করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। তবে এসব কার্যক্রম পরিচালনার সময় এআই যেন আইন ও নৈতিকতার সীমা লঙ্ঘন না করে, তা নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা ও দর–কষাকষি করতে সক্ষম এআই ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এআই প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এমন একটি ভবিষ্যতের ধারণা সামনে আসছে, যেখানে একটি এআই এজেন্ট অন্য এআই এজেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে ব্যবহারকারীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন কমে যাবে। তবে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত এআই এজেন্টগুলো যখন নিজেদের ব্যবহারকারীর জন্য সর্বোত্তম চুক্তি নিশ্চিত করতে চাইবে, তখন দর–কষাকষি আরও জটিল হতে পারে।
গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে অ্যানথ্রপিক জানায়, বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি অনুকরণ করে তৈরি বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এআই এজেন্টের দর–কষাকষির দক্ষতা যাচাই করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় কর্মীরা একটি ভার্চ্যুয়াল বাজারে এআই এজেন্টের সহায়তায় বই কেনাবেচা করেন। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কঠোরভাবে দর–কষাকষি করার নির্দেশনা পাওয়া এজেন্টগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো চুক্তি করতে পেরেছে। বিপরীতে, সহযোগিতামূলক আচরণে অভ্যস্ত এজেন্টগুলো কখনো কখনো নিজেদের পছন্দের বাইরে থাকা বইও গ্রহণ করেছে, যাতে লেনদেনে অংশ নেওয়া সবাই কোনো না কোনো সুবিধা পান।
এআই এজেন্টের দর–কষাকষির দক্ষতা নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকিও খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক মিশেল ভাকারো এআই এজেন্টগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দর–কষাকষির ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব পরীক্ষায় চাকরির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং বাড়িভাড়ার চুক্তির মতো বিভিন্ন পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গবেষণায় উঠে এসেছে, এআই এজেন্ট প্রম্পট ইনজেকশনের মতো কৌশল কাজে লাগিয়ে অন্য এজেন্টকে বিভ্রান্ত করতে পারে। এমনকি এর মাধ্যমে অন্য এজেন্টের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্যও বের করে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। প্রম্পট ইনজেকশন বলতে বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে এআই ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করানোর কৌশলকে বোঝায়।
এআই এজেন্টের ব্যবহার দর–কষাকষির ক্ষেত্রে নতুন ধরনের বৈষম্যও তৈরি করতে পারে। উন্নত এআইয়ের সহায়তায় সাধারণ মানুষ পেশাদার পরামর্শকের সাহায্য ছাড়াই নিজেদের পক্ষে অনুকূল চুক্তি আদায়ের সুযোগ পাবেন। তবে শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহারের সুবিধা যদি মূলত ধনী ব্যক্তি ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে দর–কষাকষিতে তাঁরাই বাড়তি সুবিধা পাবেন। এর ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরও প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দর–কষাকষি ও লেনদেন পরিচালনাকারী এআই এজেন্টের কার্যক্রমের জন্য সুস্পষ্ট আইনি ও নীতিগত কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এ পরিস্থিতিতে এআই এজেন্ট কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কোন অবস্থায় সমঝোতায় পৌঁছাবে এবং কখন মানুষের অনুমতি বা সহযোগিতা নেবে, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ