যুক্তরাষ্ট্রের রাতের আকাশে দেখা গেছে বিশাল ও উজ্জ্বল ‘স্পেস জেলিফিশ’। সূর্যোদয়ের ঠিক আগে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া রঙিন এই আলোকচ্ছটা মুগ্ধ করেছে মহাকাশপ্রেমীদের। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো মানুষ বিরল এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, রকেট উৎক্ষেপণের সময় বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরে তৈরি হওয়া বিশেষ আলোকীয় ঘটনার কারণেই এমন দৃশ্য দেখা যায়।
ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আকাশে স্বচ্ছ সামুদ্রিক জেলিফিশের মতো আকৃতি দেখা যায়। বিভিন্ন রঙের আভায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠা এই দৃশ্যের পেছনে রয়েছে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ করা স্পেসএক্সের একটি রকেটের নির্গত গ্যাস ও জলীয় বাষ্প।
রকেটের নির্গত জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলের অত্যন্ত ঠান্ডা স্তরে গিয়ে ক্ষুদ্র বরফকণায় পরিণত হয়। সূর্য তখন দিগন্তের নিচে থাকলেও তার আলো উচ্চ বায়ুমণ্ডলে থাকা এসব কণার ওপর পড়ে। ফলে অন্ধকার আকাশে উজ্জ্বল, রঙিন মেঘের মতো আকৃতি ফুটে ওঠে। রকেটের গতিপথ ও নির্গত পদার্থের বিস্তারের কারণে কখনো কখনো এটি বিশাল জেলিফিশের মতো দেখায়। এ ধরনের ঘটনাকে সাধারণভাবে ‘স্পেস জেলিফিশ’ বলা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে সূর্যোদয়ের প্রায় ৪৮ মিনিট আগে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ফলে, রকেটের নির্গত পদার্থে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবী থেকে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
এ অভিযানে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রয়োজনীয় রসদ ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছিল। নাসার বাণিজ্যিক সরবরাহ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এ মিশনে মহাকাশ স্টেশনের গবেষণার জন্য বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপকরণ ও পণ্য পরিবহন করা হয়।
স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, নাসার জন্য পরিচালিত ৩৫তম বাণিজ্যিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য সরবরাহ মিশনের অংশ হিসেবে ৬ হাজার ৩০০টির বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণাসামগ্রী ও অন্যান্য পণ্য মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হচ্ছে।
মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি এ ধরনের দৃশ্য বায়ুমণ্ডলে রকেটের নির্গত পদার্থের আচরণ এবং সূর্যালোকের প্রতিফলন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করে। তবে ‘স্পেস জেলিফিশ’ কোনো বাস্তব মহাজাগতিক প্রাণী নয়; এটি রকেট উৎক্ষেপণ ও সূর্যালোকের পারস্পরিক প্রভাবে তৈরি হওয়া একটি দৃষ্টিনন্দন আলোকীয় ঘটনা।
সূত্র : ডেইলি মেইল
সময়ের আলো/মহু