লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টির বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় রাজ্য সরকার। সংগৃহীত ছবিভারতের আসামে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে তিন দিনে ১ হাজার ১০০-এর বেশি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। এ সময় তিনটি জেলায় অন্তত ৬০০ হেক্টর বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত শনিবার থেকে রাজ্যের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এ অভিযান শুরু হয়।
রোববার নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ৬০০টির বেশি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় রাজ্য সরকার। এসব পরিবার বনভূমি দখল করে বসতি গড়ে তুলেছিল বলে দাবি প্রশাসনের। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলকে এ তথ্য জানিয়েছেন বন বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
এর আগে শনিবার আসামের তিন জেলায় ৫০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয় বলে স্ক্রলকে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় চালানো এ অভিযানে মোট ৫৪৭টি পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়। এর মধ্যে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, গোলাঘাটে ৫৯টি এবং হোজাইয়ে ১৫২টি পরিবার রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
লুটুমারিতে ৫৬৩ পরিবার উচ্ছেদ
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রোববারের বড় উচ্ছেদ অভিযানে নগাঁও জেলার লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়। এ সময় ৫৬৩টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
লুটুমারির বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী আবদুল নূর জানান, ১৯৭৪ সালে সরকার তাঁদের ওই এলাকায় পুনর্বাসন করেছিল। তাঁদের আদি নিবাস কাছের জুরিয়া শহরে। পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন থাকায় সরকার তাঁদের সেখানে বসতি গড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।
আবদুল নূর বলেন, প্রায় ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল। উচ্ছেদের বিরুদ্ধে তাঁরা গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত থেকে কোনো প্রতিকার পাননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ অভিযানে ৫০ বছরের বেশি পুরোনো কয়েকটি মসজিদসহ ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করার কারণেই তাঁদের অনেককে ওই এলাকায় বসবাসের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
উচ্ছেদে বৈষম্যের অভিযোগ
বন বিভাগ জানিয়েছে, গত আগস্টে মাইকিং করে উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রায় ৯০ শতাংশ দখলদার নিজেরাই এলাকা ছেড়ে চলে যান। আদালতের নির্দেশনা অনুসারেই এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন এক কর্মকর্তা।
তবে উচ্ছেদ অভিযানে এলাকার মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএমএসইউ)।
সংগঠনটির দাবি, রোববারের অভিযানে পাঁচটি মসজিদসহ প্রায় ১ হাজার ৬৬৯টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এএএমএসইউর সভাপতি এমডি ইমতিয়াজ হুসেইন জানান, লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদের মুখে পড়া ৫০০টির বেশি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৩০০টি পরিবারকে ১৯৭৩ সালে সরকার সেখানে পুনর্বাসন করেছিল। ওই ৩০০ পরিবারের মধ্যে ১৭৭টি ছিল মুসলিম পরিবার।
ইমতিয়াজ বলেন, বনাঞ্চল থেকে উচ্ছেদের বিষয়ে ২০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশনার প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। তবে তার অভিযোগ, রোববার ১৭৭টি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলেও অমুসলিমদের বিরুদ্ধে এখনো উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়নি। তাদের কোনো নোটিশও দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে ওই এলাকায় ৩০০টি পরিবারকে অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে প্রশাসনের বক্তব্য ও স্থানীয় সংগঠনটির অভিযোগের মধ্যে বৈষম্যের প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ