ছবি : সংগৃহীতউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিসে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শীর্ষ ক্লাব পিএসজি ও বার্সেলোনা। দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল, তারকাদের ব্যক্তিগত লড়াই, সাম্প্রতিক সাফল্য এবং দুই ক্লাবেই কোচিং করানো লুইস এনরিকের অতীত—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। দুই দলের সাম্প্রতিক গোল করার ধারাও ইঙ্গিত দিচ্ছে, পার্ক দ্য প্রিন্সেসে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় পিএসজির মাঠে শুরু হবে ম্যাচটি। তবে এটি কেবল দুই চ্যাম্পিয়ন দলের লড়াই নয়; ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণের পাশাপাশি তারকাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর মঞ্চও।
গোলের ক্ষুধায় এগিয়ে দুই দল
২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের পর থেকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে ম্যাচপ্রতি গোলের হিসাবে বার্সেলোনা ও পিএসজি রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। বার্সেলোনা ৬৮ ম্যাচে করেছে ১৯২ গোল, আর পিএসজি ৬৭ ম্যাচে ১৫৪ গোল। এই তালিকায় তাদের ওপরে কেবল বায়ার্ন মিউনিখ।
চলতি মৌসুমেও বার্সেলোনার আক্রমণভাগের ধার চোখে পড়ার মতো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচের ১০টিতেই অন্তত তিনটি গোল করেছে তারা। এর মধ্যে ছয় ম্যাচে গোলসংখ্যা পাঁচ বা তার বেশি। অন্যদিকে, পিএসজির শক্তিশালী বেঞ্চ ও স্কোয়াডের গভীরতা কোচকে নিয়মিত খেলোয়াড় বদলানোর সুযোগ দিচ্ছে, তবু দলটির ফলাফলে বড় ছন্দপতন দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিসংখ্যান ম্যাচটিতে গোলের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিলেও, দুই দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতার বিপরীতে রক্ষণ সামলানোর সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যে দল প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবে, তারাই এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
এনরিকের জন্যও বিশেষ ম্যাচ
দুই দলের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করছেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক। ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বার্সার হয়ে খেলেছেন তিনি। পরে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোচের দায়িত্বে থেকে দলকে জিতিয়েছেন লা লিগা, কোপা দেল রে ও ২০১৪-১৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ।
এনরিকে জানেন বার্সেলোনার ফুটবল-দর্শন ও খেলোয়াড়দের সামর্থ্য। অন্যদিকে, বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের দলও পিএসজির আক্রমণাত্মক কৌশল সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। দুই কোচের কৌশলগত লড়াই তাই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ইয়ামাল-দেম্বেলের লড়াই, সঙ্গে চোটের উদ্বেগ
দুই দলের তারকাদের ব্যক্তিগত দ্বৈরথও ম্যাচটির অন্যতম আকর্ষণ। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে পিএসজির উসমান দেম্বেলে পুরস্কার জিতেছিলেন, আর দ্বিতীয় হয়েছিলেন বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল। সেই দুই তারকার পাশাপাশি দুই দলের আক্রমণভাগের অন্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও নজরে থাকবে।
তবে ম্যাচের আগে দুই দলই চোটের সমস্যায় পড়েছে। বার্সেলোনার রক্ষণভাগে জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়ার চোট বড় দুশ্চিন্তা। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনও ছিটকে গেছেন। অন্যদিকে, পিএসজি পাচ্ছে না নুনো মেন্দেসকে। ফলে দুই দলের আক্রমণ যতটা আলোচনায়, রক্ষণভাগের সমন্বয়ও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে এগিয়ে পিএসজি
সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়েও পিএসজির আত্মবিশ্বাসের কারণ আছে। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে বার্সেলোনাকে তাদের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছিল প্যারিসের দল। এর আগে ২০২৩-২৪ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালেও দুই লেগ মিলিয়ে বার্সাকে বিদায় করেছিল তারা। প্রথম লেগে ৩-২ গোলে হারের পর ফিরতি লেগে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল পিএসজি।
সব মিলিয়ে ম্যাচটির রোমাঞ্চের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—দুই দলের গোল করার সামর্থ্য, ইউরোপীয় মঞ্চে সাম্প্রতিক সাফল্য, তারকাদের দ্বৈরথ এবং কোচদের কৌশলগত লড়াই। তবে আক্রমণাত্মক ফুটবলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, নাকি রক্ষণ সামলে সুযোগ কাজে লাগানো দল এগিয়ে যাবে—সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সময়ের আলো/টিকে