বিশ্বজুড়ে বন্যা-খরা ও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জাতিসংঘের। সংগৃহীত ছবি প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বন্যা, খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন এল নিনো পরিস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে কৃষি, পানির সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্যে।
বুধবার প্রকাশিত বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। ডিসেম্বরের দিকে এই তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, সংস্থাটির রেকর্ডে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এমন মাত্রা আগে দেখা যায়নি। অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর সময় সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছিল। এবার সেই মাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কী এই এল নিনো?
এল নিনো হলো প্রাকৃতিক জলবায়ুচক্র এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশনের (ইএনএসও) উষ্ণ পর্যায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও বাড়তে পারে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি।
এল নিনো সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি হয় না। তবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
যেসব অঞ্চলে বাড়তে পারে দুর্যোগের ঝুঁকি
ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে পানির সংকটও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। চরম আবহাওয়ার কারণে বাড়তে পারে ঘরবাড়ি, পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ।
খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন কোটি মানুষ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, শক্তিশালী এল নিনো লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, এর প্রভাবে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ আরও গুরুতর খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, খাদ্য ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ