আর কত সুযোগ সৌম্যদের?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলা

যে ম্যাচে জিতলে বেঁচে থাকবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার আশা, সেখানে ব্যাট হাতে চরম হতাশার গল্প লিখল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের সামনে

2026-10-22T02:36:25+00:00
2026-10-22T02:36:25+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬,
৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
খেলা
আর কত সুযোগ সৌম্যদের?
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৬ এএম 
আর কতদিন এভাবে সুযোগ পেতে থাকবেন সৌম্য সরকাররা? ছবি : সংগৃহীত
যে ম্যাচে জিতলে বেঁচে থাকবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার আশা, সেখানে ব্যাট হাতে চরম হতাশার গল্প লিখল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়ানোর বদলে একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিয়ে যেন নিজেরাই ডেকে আনল বিপর্যয়। প্রশ্নটা তাই আবারও সামনে— আর কতদিন এভাবে সুযোগ পেতে থাকবেন সৌম্য সরকাররা? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেওয়ার জন্য কি যথেষ্ট সময় পাননি তারা? নাকি ব্যর্থতার পর ব্যর্থতা সত্ত্বেও পুরোনোদের ওপর আস্থা রাখার মূল্য দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে?

আরব আমিরাতের কন্ডিশন বিবেচনায় সৌম্য সরকারের কাছ থেকে ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শারজায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনিই হতাশ করলেন বেশি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের যখন তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন ২৮ বলে মাত্র ৯ রান করে ফিরেছিলেন সাজঘরে। পরের ম্যাচে তো ব্যাট হাতে দাঁড়াতেই পারলেন না। ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বল কাভার ড্রাইভ করতে গিয়ে নিজের স্টাম্পে টেনে আনেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এমন আত্মঘাতী শটের পর তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর শুরুতে নিজের ব্যাটিং দিয়ে নজর কেড়েছিলেন সৌম্য। আগ্রাসী ব্যাটিং, সাবলীল শট আর বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্যে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্ভাবনাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারেননি তিনি। যে সময়ে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলের ভরসা হওয়ার কথা, সেই সময়েই বারবার হতাশ করছেন এই ওপেনার।

পরিসংখ্যানও তার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার চিত্র থেকে খুব বেশি স্বস্তি দেয় না। প্রায় ৩৪ বছর বয়সি সৌম্য ৮৭টি ওয়ানডেতে ৮২ ইনিংস ব্যাট করে ৩২.০১ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৪৯৭ রান। লম্বা ক্যারিয়ারজুড়ে সেঞ্চুরি মাত্র তিনটি! সর্বশেষ শতক পেয়েছেন ২০২৩ সালে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এমন পরিসংখ্যান তার সামর্থ্যরে তুলনায় কতটা যথেষ্ট, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

সৌম্যকে ঘিরে সমালোচনা তাই নতুন নয়। তবে এবার প্রশ্নটা আরও বড়, তাকে কি আরও সুযোগ দেওয়া উচিত, নাকি সময় এসেছে বিকল্পদের নিয়ে ভাবার? কেউ কেউ মনে করছেন, এই ম্যাচই হয়তো তার ক্যারিয়ারের শেষ সুযোগ হয়ে থাকতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের, কিন্তু ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর সৌম্যকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, তা বলাই যায়।


বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দায় অবশ্য শুধু সৌম্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বাঁচা-মরার ম্যাচে টপ অর্ডারের প্রায় সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ইয়ামিনের বলে মাত্র ১ রান করে ফিরেছেন। দলের অন্যতম ভরসা নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩ বলে করেছেন ১৫ রান। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

এমন ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রতিপক্ষের হাতে চলে যাওয়াই স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুতে উইকেট হারানো অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্যই একটি ভালো দলের পরিচয়। বাংলাদেশের ব্যাটাররা সেই পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। কখনো দায়িত্বহীন শট, কখনো পরিস্থিতি বুঝতে না পারা, আবার কখনো চাপ সামলাতে না পারার পুরোনো সমস্যাগুলোই ফিরে আসছে।

পেসার তাসকিন আহমেদ এক দিন আগেই দলের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ও গেম অ্যাওয়্যারনেসের অভাবের কথা বলেছেন। ওপেনার তানজিদ হাসানও স্বীকার করেছেন, ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেননি তারা। কথাগুলো শুধু একটি ম্যাচের ব্যর্থতা নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যারই প্রতিফলন।

টপ অর্ডারের ধসের পর অবশ্য কিছুটা লড়াই দেখিয়েছেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে গড়েছেন ৯৩ রানের জুটি। শুরু থেকে এক প্রান্ত আগলে রাখা সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করে ফিরেছেন। অন্যদিকে ইমন তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক।

তাদের এই জুটি দেখিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও উইকেটে টিকে থেকে রান তোলার সুযোগ থাকে। প্রয়োজন ধৈর্য, পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করা। কিন্তু দলের অন্য ব্যাটাররা সেই বার্তাটা কতটা গ্রহণ করতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সাইফ ও ইমনের লড়াইয়ের মধ্যে ভবিষ্যতের জন্য একটি ইঙ্গিতও আছে। নতুনদের সুযোগ দিয়ে তাদের ধারাবাহিকভাবে গড়ে তোলার সময় এসেছে কি না, তা নিয়ে ভাবতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা। অভিজ্ঞতার মূল্য অবশ্যই আছে, কিন্তু শুধু অতীতের সাফল্যের ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকাল সুযোগ দেওয়ারও যৌক্তিকতা নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা ধরে রাখতে হলে বর্তমান পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিতে হয়।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সংকট তাই শুধু কয়েকটি উইকেট হারানো কিংবা একটি ম্যাচে হেরে যাওয়ার গল্প নয়। এটি দল নির্বাচন, দায়িত্ববোধ, মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময়ও। সৌম্যদের সামনে এখনও নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে ব্যাট হাতে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   আর কত  সুযোগ  সৌম্য 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: